অন্ধকারে আলোর প্রদীপ

184

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গ্রামের বেকার তরুণ-তরুণী ও ঝরে পড়া অক্ষরহীন মানুষের জন্য উদ্যমী কয়েকজন যুবক মিলে অক্ষরজ্ঞান দান করে অন্ধকার থেকে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে দিচ্ছেন। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের যুব ফোরাম নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কতিপয় ছাত্রদের নিয়ে সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জামাল হোসেন। তাদের সারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ফেডারেশন সংলগ্ন রয়েছে একটি পাঠাগার। আর সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গল্প, উপন্যাসসহ দেশ-বিদেশের সাহিত্য, কবির নানা ধরনের বই। প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা জ্ঞান আহরণ করার জন্য পাঠাগারে আসে।

তাদের সংগঠনের সদস্যরা গ্রামে ঘুরে খুঁজে বের করে বেকার অসহায় যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অসহায় দরিদ্র নারীদের ভিজিডি প্রোগ্রামের আওতায় আনার জন্য সরকারি দফতরে দাখিল। শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে তারা। বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং বন্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে তরুণরা।

হরিজন সম্প্রদায়ের প্রাপ্য জমি ফিরিয়ে দিতে দীর্ঘ আন্দোলন করে ইতোমধ্যেই সফল হয়েছে সারপুকুর যুব ফোরাম। সারপুকুর যুব ফোরাম শুধু পাঠাগার ও শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, নানা সামাজিক কাজেও সম্পৃক্ত। পথনাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করছে এ ফোরাম।

দরিদ্র পরিবারকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অধিকার আদায়সহ সমাজের অসংখ্য অসঙ্গতি তুলে ধরে তা প্রতিকারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে তারা সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু কি তাই! বঞ্চিত ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে নিজেদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় সবল করে তুলছে এসব তরুণ।

সংগঠনের স্বপদ্রষ্টা জামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে ১৩৫ জন ছাত্রীকে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছি। তারা বর্তমানে পড়ালেখা করছে। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে আদিতমারী উপজেলায় প্রথম পাঠাগার গড়ে তুলি। যা এখন রূপ নিয়েছে গণপাঠাগারে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় পাঠাগারের পাশাপাশি আরও সাতটি সপ্তাহিক পাঠাগার গড়ে তুলেছি আমরা। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা পাঠাগারটিকে আধুনিক পাঠাগার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং যুব সমাজের জন্য কম্পিউটার শিক্ষার পরিকল্পনাও নিয়েছি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments