আকাশচুম্বী দাম হেঁকেছিলেন হেসন

24

৭১ কণ্ঠ ডেস্ক

সামনে দুটি পথই খোলা ছিল। বিস্তর ব্যয়ে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ যেমন ছিল, তেমনি ছিল সস্তার সমাধান খুঁজে নেওয়ার সুযোগও। এই দুই বিকল্পের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বেছে নিল পরেরটিই। বাজারমূল্যের তুলনায় কম পারিশ্রমিকে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ দলের হেড কোচ হিসেবে রাসেল ডমিঙ্গোকে নিয়োগ দিয়েছে তারা। এই দক্ষিণ আফ্রিকানের পারিশ্রমিকের অঙ্ক না বললেও কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিসিবির একটি সূত্র ইংরেজিতে এটুকু জানাতে অবশ্য দ্বিধা করেনি, ‘ভেরি রিজনেবল’।

এই দক্ষিণ আফ্রিকানের চাহিদা কম হলেও বাংলাদেশের হেড কোচ হওয়ার দৌড়ে থাকা কেউ কেউ বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক দাবি করে লড়াইয়ে পিছিয়েও পড়েন। এঁদের অন্যতম নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ মাইক হেসন। অথচ একটা সময় পর্যন্ত সাকিব আল হাসানদের কোচ হওয়ার দৌড়ে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নাম। কিন্তু বিশাল দর হেঁকে শেষ পর্যন্ত পিছিয়েও যান। অবশ্য তাঁর প্রত্যাশিত পারিশ্রমিকের অঙ্ক শুনে বিসিবি কর্মকর্তাদের ভড়কে যাওয়ার সঙ্গে হেসনের ভারতীয় দলের সম্ভাব্য হেড কোচ হিসেবে সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার যোগসূত্রও আছে। এটি তো ইতিমধ্যে সবারই জানা হয়ে গেছে যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কোচ নিয়োগ কমিটির নেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রথম হওয়া রবি শাস্ত্রীর চেয়ে অল্প ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় হয়েছেন হেসন।

বিশাল অঙ্কের বেতনে ভারতের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে থাকতেই দরও বাড়িয়ে দেন এই নিউজিল্যান্ডার। তাতে এক পা এগিয়ে আবার কয়েক পা পিছিয়ে যায় বিসিবিও। দিন দুয়েক আগে কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক সূত্রের ক্ষোভও তাই প্রকাশ্য হয়ে পড়ে এই কথায়, ‘এক মিলিয়ন ডলার (বছরে) চাইলেই আমরা দেব নাকি?’ বছরে ১০ লাখ ইউএস ডলারের চাহিদাই হেসনের ব্যাপারে ব্যাকফুটে চলে যায় বিসিবি। তবে সবশেষ যোগাযোগে সেই অঙ্ক কমেছিল। কিন্তু কমার পরেও সেটি ‘ভীতিকর’ অঙ্ক ছিল বলেই জানা গেছে। চন্দিকা হাতুরাসিংহেকে মাসে প্রায় ২৮ হাজার ডলার বেতন দিত বিসিবি। হেসনের সংশোধিত দর মাসে এর দ্বিগুণেরও বেশি বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। তাই সস্তার সমাধান হিসেবে ডমিঙ্গোর দিকেই আরো বেশি ঝুঁকে পড়ে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন।

এই দক্ষিণ আফ্রিকান তাঁর এজেন্টের মাধ্যমে গত ২১ জুলাই হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) অথবা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হেড কোচ হতে চেয়ে আবেদন করেন (এর প্রমাণও কালের কণ্ঠ’র হাতে আছে)। যেখানে বলা হয় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের হেড কোচ হিসেবে তিনি মাসে আট হাজার ইউএস ডলার পেয়ে থাকেন। ওই আবেদনে বলা হয়, এর চেয়ে সামান্য কিছু বেশি পারিশ্রমিক দেওয়া হলেই তিনি বাংলাদেশের এইচপি বা ‘এ’ দলের দায়িত্ব নিতে রাজি। যদিও গত ৭ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে সাক্ষাৎকার দিতে আসেন জাতীয় দলের হেড কোচ হিসেবেই। সেখানে কম পারিশ্রমিকের সঙ্গে বাড়তি সময় দেওয়ার মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত ডমিঙ্গোকে বানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের হেড কোচ।

Facebook Comments