আগের ম্যাচে আমার কথার জন্যই লাল কার্ড দেখানো হলো : মেসি

374

আলোকিত সকাল ডেস্ক

কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ৩৭ মিনিটের মাথায় রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে পেরুর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন লিওনেল মেসি। রাগে ক্ষোভে মেডেল নিতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান। একইসঙ্গে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মেডেল গ্রহণ না করা প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি মঞ্চে যাইনি কারণ অসম্মান আর দুর্নীতির অংশ আমি হতে চাই না।

ম্যাচ শেষে মিক্স জোনে গণমাধ্যমকে দেয়া ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই রেফারিং ছিলো অত্যন্ত বাজে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও, আমি এখনই দেখতে পাচ্ছি এবারের শিরোপা জিতবে ব্রাজিল। অবশ্যই তাতে আমার কোনো সন্দেহই নেই। তবে দুঃখজনকভাবে সেভাবেই সব ঠিক করা সব।

তিনি বলেন, ফাইনাল ম্যাচে রেফারি কিংবা ভিএআরের কিছুই করার থাকবে না; যাতে পেরু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে। শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও পেরুকে এসব কিছুর বিপক্ষেই লড়তে হবে। পেরুর জেতাটা কঠিন হবে।

কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষেও বাজে রেফারিংয়ের শিকার হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুটি পেনাল্টির আবেদনে সাড়া দেননি রেফারি। প্রথমটাতে টেলিভিশন রিপ্লেতে ব্রাজিল অধিনায়ক দানি আলভেসের ট্যাকলে আর্জেন্টিনার অ্যাগুয়েরোকে ডি-বক্সে পড়ে যেতে দেখা যায় যেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলের সূচনা হয়।

দ্বিতীয় ঘটনাটিতেও ডি-বক্সের মধ্যে ব্রাজিলের মিডফিল্ডার আর্থার কাঁধ দিয়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির গলায় আঘাত করেন। এই দুটি ঘটনার কোনটাই দেখেননি সামব্রানো এবং আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের অভিযোগের পরে কোন ঘটনা ঘটেছিল কিনা সেটাও ভিএআর টিমকে দেখতে বলেননি ইকুয়েডরের এই রেফারি।

ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের পর বলা কড়া কথার জন্য তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে দাবি করে মেসি বলেন, আমাদের আরও প্রাপ্য ছিল। কিন্তু তারা আমাদের ফাইনালে যেতে দেয়নি। দুর্নীতি আর রেফারিদের বাজে সিদ্ধান্ত লোকজনকে সুন্দর খেলা উপভোগ করতে দেয়নি। ফুটবলকেই তারা ধ্বংস করছে। আপনাকে সত্যিটা বলতেই হবে। আমাকে কেন লাল কার্ড দেখানো হয়েছে? আমার মনে হয় আগের ম্যাচে আমার কথার জন্যই আজকে আমাকে লাল কার্ড দেখানো হলো।

ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষে মেসি বলেছিলেন, ব্রাজিল মোটেও আমাদের চেয়ে ভালো খেলেনি। তারা শুরুতে একটা গোল পেয়ে গেছে আর দ্বিতীয় গোলটা পেয়েছে এমন একটা অবস্থায় যার আগে আমাদের পেনাল্টি দেয়া হয়নি। রেফারিং ছিল পাগলাটে। ওতামেন্দি ও অ্যাগুয়েরোর ওপর দুটি ফাউল তো স্পষ্ট পেনাল্টি ছিল। রেফারি ওদের পক্ষে ছিল। প্রতিটি পরিস্থিতিতে, যেখানে দুই দলের সমান সুযোগ ছিল কিংবা কোনো দ্বিধা তৈরি হয়েছে, সব জায়গাতেই রেফারির সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের পক্ষে গেছে। এটা কোনো অজুহাত নয়, তবে সত্যি কথাটা হচ্ছে তারা বোকার মতো সব সিদ্ধান্তের জন্য বাঁশি বাজাচ্ছে, হ্যান্ডবল কিংবা পেনাল্টির। অথচ সুযোগ থাকার পরও তারা ভিএআর ব্যবহার করছে না, যেখানে তাদের স্পষ্ট করে দেখার সুযোগ আছে।

প্রসঙ্গত, মাঠের ডানপ্রান্ত দিয়ে ক্ষিপ্রগতিতে চিলির রক্ষণভাগে হানা দেন মেসি। আর তাকে আটকানোর জন্য বারবার মেসির হাত ও জার্সি টেনে ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালান চিলির অধিনায়ক গ্যারি মেডেল। এক পর্যায়ে তার সাইড ডেসে বিপজ্জনকভাবে মাঠের বাইরের দিকে ছিটকে যান মেসি। তাতে কিছুটা ক্ষুব্ধ্ব হয়েই মেডেলের দিকে তেড়ে আসেন তিনি। কিন্তু এ সময় উল্টো মেসিকেই একের পর এক ধাক্কা মেরে মাঠের একপ্রান্তে নিয়ে যান মেডেল। তাকে একবার ঠেকানোর চেষ্টা করা ছাড়া পরের সময়টুকু নিরবেই ধাক্কা সহ্য করেন মেসি।

এ সময় দুপক্ষের খেলোয়াড়েরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামলে নিয়ে ভিএআর প্রযুক্তির স্মরণাপন্ন হন রেফারি। দুবারের রিপ্লেতেই পরিষ্কার দেখা যায় কি ঘটেছিল। কিন্তু সবাইকে হতবাক করে দিয়ে মেসিকেই লাল কার্ড দেখান রেফারি! এরপর কিছু সময় নিরব দাঁড়িয়ে দেখে মাঠ ছাড়েন মেসি। শেষ পর্যন্ত দশজনের আর্জেন্টিনা দলটিই চিলির বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments