আশা বাঁচিয়ে রাখার শেষ সুযোগ আজ টাইগারদের

336

আলোকিত সকাল ডেস্ক

কাগজে-কলমে এখনও বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা ফুরিয়ে যায়নি। তবে খুব যে সম্ভাবনা আছে তাও নয়। বিশ্বকাপের এবারের আসরে বাংলাদেশের দিকে ভাগ্য যতবার মুখ তুলে তাকিয়েছে, প্রায় ততবার মুখ ফিরিয়েও নিয়েছে। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এ পর্যন্ত যে তিনটি ম্যাচ হেরেছে এক ইংল্যান্ড বাদে বাকি দুটি ম্যাচেই জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও ভাগ্য সহায় না থাকায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিতে শ্রীলংকার মতো সহজ শিকার হাত ফসকে বের হয়ে গেছে টাইগার-বাহিনীর। সর্বশেষ রোববার ভারত-ইংল্যান্ড দ্বৈরথে উপ-মহাদেশের প্রায় দু’শো কোটি মানুষের সঙ্গে কোহলিদের জয়ের প্রার্থনায় রত ছিল গোটা বাংলাদেশও। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২৭ বছর পর বহু আরাধ্য জয়ের দেখা পায় স্বাগতিকরা। আর এ জয়ে টিম টাইগার্সের শেষ চারে ওঠার সমীকরণটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য পরের দু’টো খেলায় ভারত আর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই মাশরাফি বাহিনীর, আর চোখ রাখতে হবে অন্যদলের ফলাফল আর নিজেদের নেট রান রেটের দিকেও। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় এজবাস্টনের বার্মিংহ্যামে দল দুটো একে অপরের মুখোমুখি হবে।

ক্রিকেটের পরম প্রার্থনীয় দ্বৈরথগুলোর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান মহারণের অবস্থান তর্কাতীতভাবেই শীর্ষে। তবে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ এখনও মহারণের মর্যাদা না পেলেও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে দু’দলের লড়াই যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক হয়ে উঠেছে। এ ম্যাচকে ঘিরে মাঠ ও মাঠের বাইরে কথার ঝাঁজ এবং উত্তেজনার রসদের কোনো কমতি থাকে না। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে উত্তেজনা আমদানিতে দ্বিতীয় অনুঘটক ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সমীহ জাগানো দল হয়ে ওঠা। ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশকে হারানোর দিন শেষ হয়ে যাওয়ায় ভারতও এখন এই ম্যাচের আগে চাপে থাকে। পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়, ক্রমেই কমে আসছে দু’দলের ব্যবধান।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের কাছে রোববারের হার হিসাব করলে গত এক দশকে মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ ম্যাচ হেরেছে ভারত। ইংল্যান্ডের কাছে হারলেও তাদের শেষ চারে যাওয়া অবশ্য আটকাচ্ছে না। তবে কোনোরকম জটিলতা এড়াতে পরের দু’টো ম্যাচের অন্তত একটিতে জিততে হবে। ইংলিশদের বিপক্ষে ঐতিহ্যের লড়াইয়ে হারার পর কোহলির টিম ইন্ডিয়া চাইবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে। তবে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর আফগানিস্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা মাশরাফি বাহিনীও এদিন এজবাস্টনের বাইশ গজে ছেড়ে কথা বলবে না, এটা সহজেই অনুমেয়।

এদিকে, চোট কাটিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে রোববার দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদ। মাহমুদউলস্নাহকে অনুশীলনে পাওয়া বাংলাদেশ দলের জন্য বড় একটি পাওয়াও বটে। ২৪ জুন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট করার সময় কাফ মাসলে টান লেগেছিল মাহমুদউলস্নাহর। ম্যাচ শেষে স্ক্যান রিপোর্টে জানা যায়, নিচু মাত্রার টিয়ার রয়েছে মাসলে। সাউদাম্পটন থেকে ক্র্যাচে ভর দিয়ে টিম বাসে উঠলেও বাংলাদেশের অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান এখন সুস্থ। গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছেন ক্র্যাচ ছাড়াই, স্বাভাবিকভাবে হেঁটে। সেই রাতে টিম হোটেলে হাঁটার সময়ও ক্র্যাচ ছিল না মাহমুদউলস্নাহর সঙ্গে। তিনি নিজেই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বার্মিংহ্যামে আসার একদিন পর থেকে ক্র্যাচ ছাড়া হাঁটছেন। আর এদিন অনুশীলনে ব্যাট হাতে দেখা গেল তাকে।

ছুটি শেষে অনুশীলনে ফিরে পেস বোলিং কোচ ক্যারিবীয় গ্রেট কোর্টনি ওয়ালশ বলেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে নামার আগে দলের প্রত্যেকে মানসিকভাবে ইতিবাচক। ছেলেরা সবটুকু উজাড় করে দিয়ে বাংলাদেশের জন্য গর্ব বয়ে আনতে চায়। আমাদের আর দুটি ম্যাচ বাকি। ভালো কিছুর জন্য এই দুই ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে দলকে।’

এ পর্যন্ত যতগুলো খেলা হয়েছে, তার নিরিখে বলা যায়, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিঃসন্দেহে বোলারদের থেকে বেশি সফল। এই ম্যাচে মাহমুদউলস্নাহ দলে ফিরলে মিডল অর্ডার আরও শক্তিশালী হবে বাংলাদেশের। অন্যদিকে, গত ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিং দলকে বেশ ভুগিয়েছে। প্রয়োজনীয় মুহূর্তে বোলারদের নির্বিষ বোলিং জয় থেকে ছিটকে দিয়েছে। তাই ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সমানে সমানে টক্কর দিতে গেলে ব্যাটিং ছাড়াও বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments