আ.লীগজুড়ে তীব্র অসন্তোষ

371

আলোকিত সকাল ডেস্ক

স্বাধীনতাবিরোধীসহ ভিন্নপন্থিদের উত্তরাধিদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যুদ্ধাপরাধী পরিবার হলেও কেউ চাইলে আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে, এক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে ব্যক্তিগত পরিচয়!

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির এ ধরনের বক্তব্যে বা সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগজুড়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে পুনর্বাসন করা হবে— অভিযোগ তুলে দল, সরকার ও সরকার সমর্থিত বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী সংগঠন প্রতিবাদ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের। ওই সময় নতুন সদস্যের কেউ যুদ্ধাপরাধী হলেও বিষয়টি সামনে নেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পরিবার নয়, সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে। ওই পরিবারের কেউ হয়তো সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে ছিল বা জামায়াতে ইসলামী করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের সাথে যাদের যোগসূত্র ছিল, সেটা ৪৭ বছর পরে এ ধরনের বিষয় দেখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা যাকে সদস্য করব, তার ব্যাকগ্রাউন্ডটাই শুধু দেখবো।

এদিকে, দলের সাধারণ সম্পাদকের এ ধরনের মন্তব্যকে আওয়ামী লীগের চেতনাবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন নেতাকর্মীরা। যত বছর পরই হোক, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বা তাদের দোসরদের সঙ্গে চলতে পারে— এ ধরনের সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। তাই ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, আওয়ামী লীগের এমন দৈন্যদশা হয়নি যে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান?দের নিয়ে আওয়ামী লীগকে পরিচালিত করতে হবে।

যুদ্ধাপরাধীরে সন্তানের রক্তে বেইমানি আছে, এদের দলে নিলে যেকোনো সময় এরা বেইমানি করবে। এদের দলে আশ্রয় দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, যে আওয়ামী লীগ আছে সেই আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বিশ্ব জয় করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর চেতনা মানুষের মধ্যে ছাড়িয়ে দেব। আমরাই পারব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে। তাই এই আওয়ামী লীগে আর কারো প্রয়োজন নেই।

ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেছেন, যদি তাই হয়, তবে যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা শহীদ সন্তান— তারা দূরে সরে যাবে। বীরের রক্ত কখনো খুনির রক্তের সাথে মিলতে পারে না।

হয় ওদের নেবেন, না হয় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারদের নেবেন। সিদ্ধান্ত আপনাদের। প্রমাণিত পরীক্ষিত রক্তের সৈনিক চান না, না কি— পিঠে ছোরা মারা, আপসকামী বিশ্বাসঘাতকদের রক্তের সুসময়ের কোকিলদের দলে চান। ফলাফল ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন আশা করি।

তিনি আরও বলেন, কেন দূরে ঠেলে দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের এই কোটি কোটি নীরব সমর্থকদের? যাদের দলে নিতে চাইছেন তারা শুধু ৩০ লাখ শহীদের হত্যাকারীই নয়, তারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী, জাতীয় চার নেতার হত্যাকারী, রাসেলের হত্যাকারী। এরা এখনো প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধু কণ্যার হত্যার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

কেন এদের দলে নিতে চাচ্ছেন ভাবছেন তারা আপন হবে?

আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগে যোগদান করানোর কোনো সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে হয়নি। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা নেতাকর্মীদেরও দেওয়াও হয়নি। সাধারণ সম্পাদকের এ ধরনের মন্তব্যের কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস নিশ্চিত করেনি দলটির কোনো নেতা।

শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করে। সেক্ষেত্রে স্বাধীনতাবিরোধীদের সমর্থকদের দলে এনে কখনোই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

দলের এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত আছে বলে আমার জানা নেই। নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির বাস্তবায়নে আমাদের এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। আমার মনে সাধারণ সম্পাদকের এ ধরনের বক্তব্য ব্যক্তিগত।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, দলের ফোরামে এ ধরনের আলোচনা হয়েছে বলে জানা নেই। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বা তাদের পরিবারের সাথে আওয়ামী লীগ এক সাথে পথ চলতে পারে না এবং একজন কর্মীও মেনে নেবে না।

আস/এসআইসু

Facebook Comments