ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে পাকিস্তান

231

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে থাকছে আনপ্রেটিক্টেবল পাকিস্তানও। কারণ টুর্নামেন্টের শেষ চারে যাওয়ার লড়াইয়ে তিন দলেরই পয়েন্ট কাছাকাছি। এখন পর্যন্ত আটটি করে ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ড ১১, ইংল্যান্ড ১০ ও পাকিস্তান ৯ পয়েন্ট পেয়ে একে অন্যের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। সেমিফাইনালে খেলতে হলে আজ স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে জিততেই হবে কিউইদের বিপক্ষে। চেস্টার-লি-স্ট্রীটে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি। পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান অনুযায়ী বলা যায়, এটি ইংলিশদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। যদি তারা নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায় আর নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তান হারিয়ে দেয় বাংলাদেশকে তাহলে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়তে হবে ইংল্যান্ডকে। অন্যদিকে কিউইরা যদি বিশাল বড় ব্যবধানে হারে তাহলে সেমিতে যাওয়া তাদের জন্য অনিশ্চয়তা হয়ে দেখা দিবে। যে কারণে বিশ্বকাপের ৪১তম ম্যাচটিকে ঘিরে এখন টানটান উত্তেজনা স্বাগতিক সমর্থকদের মাঝে। আগের ম্যাচে বিধ্বংসী ব্যাটিং, দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের কারণে শক্তিশালী ভারতকে ৩১ রানে হারিয়ে শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে ফিরে আসায় মরগ্যান বাহিনীর উপর আস্থা রাখছেন তারা। ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় ফিরে আসায় কিউদের বিপক্ষে একটু বেশীই ভরসা পাচ্ছেন ইংল্যান্ডের সমর্থকরা। ভারতের বিপক্ষে বেধঢ়ক পিটিয়ে প্রথম উইকেট জুটিতে ১৬০ তোলেন রয় এবং জনি বেয়ারস্টো। জিততে হলে আজ নিউজিল্যান্ড ম্যাচেও জ্বলে উঠতে হবে এ দু’জনকে। যদি তাই হয়, তবে বলা যায়না ম্যাচে কিউইদের ভাগ্যে কী আছে?

এবারের বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে অপরাজিত ছিল নিউজিল্যান্ড। সপ্তম ম্যাচে পাকিস্তান এবং পরের ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে হঠাৎ শেষ চারে ওঠা অনিশ্চয়তা হয়ে দেখা দিয়েছে কিউইদের। ওপেনারদের ব্যর্থতার দরুণ বারবার চাপে পড়তে হয়েছে নিউজিল্যান্ড মিডল-অর্ডারকে। বিশেষ করে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে। ২০১৫ বিশ্বকাপে দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন মার্টিন গাপ্টিল। হারানো ফর্ম ফিরে পেয়ে এবার কিছু করে দেখানোর সময় এসেছে তার।

পারফরমেন্স, পয়েন্ট ও নেট রানরেট সব মিলিয়ে এখন যা পরিস্থিতি, তাতে নিউজিল্যান্ডেরই সেমিফাইনালে যাওয়া উচিত। তবে বলা তো যায়না, আজ কিউইরা বড় ব্যবধানে হেরে বসলে পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের।

এ ম্যাচে চোখ থাকবে ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস ও নিউজিল্যান্ডের তারকা ব্যাটসম্যান রস টেইলরের উপর। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চারটি হাফসেঞ্চুরি করেছেন বেন স্টোকস। ভারতের বিপক্ষে ইনিংসটা তার সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য। জন্মভূমি নিউজিল্যান্ডের সামনে এবার অগ্নিপরীক্ষা এই অলরাউন্ডারের।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের হয়ে এবারের বিশ্বকাপে উইলিয়ামসন ছাড়া রান পেয়েছেন একমাত্র টেইলর। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে পাঁচটা শতরান আছে তার। অতীত মনে করে আজ টেইলর জ্বলে উঠলে ইংল্যান্ডের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। দু’দলের মধ্যে শেষ লড়াইয়ে ৩৩৫ তাড়া করতে হয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। সেদিন ১৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন টেইলর। তার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। প্রিয় প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে আজ কী করেন টেইলর? সেটাই দেখার অপেক্ষায় আছেন তার ভক্তরা।
ম্যাচের আগে আবহাওয়ার খবরে বলা হয়েছে, কিছু সময় মেঘ থাকলেও আজ চেস্টার-লি-স্ট্রীটের আকাশ পরিষ্কারই থাকবে। বৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনাই রয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments