ঋণে এনজিওনির্ভর গ্রামীণ মানুষ

177

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ খুব একটা পাচ্ছেন না গ্রামাঞ্চলের মানুষ। এ কারণে ঋণ পেতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে তাদের। প্রয়োজনের তাগিদে অনেকে উচ্চ সুদে মহাজনি ঋণও নিচ্ছেন। সংখ্যায় কম হলেও গ্রামে এনজিওর তুলনায় পরিবারপ্রতি মহাজনি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি জরিপ-২০১৮ এর ভিত্তিতে তৈরি এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সরকারি সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে সারাদেশের গ্রামীণ এলাকার দুই কোটি ৭৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৪টি খানার মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়েছেন ৯৭ লাখ ৯৭ হাজার ৩৯৬টি খানার সদস্যরা। ঋণ গ্রহীতা খানা বা পরিবারগুলোর মধ্যে ৬৪ শতাংশই ঋণ নিয়েছে এনজিও থেকে। অন্যদিকে ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ পরিবার গ্রামীণ এলাকায় স্থাপিত সরকারি বা বেসরকারি বাণিজ্যিক ঋণের সুযোগ পেয়েছে। উচ্চ সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং অন্যান্য উৎস থেকে ঋণ নিয়েছে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ খানার সদস্যরা।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতিটি খানার ঋণ রয়েছে ৪২ হাজার ৬০৮ টাকা।

ঋণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এনজিও নির্ভরতা রংপুর বিভাগে। গত বছর এ বিভাগের ঋণ গ্রহীতাদের ৭৪ শতাংশ নিয়েছেন এনজিও থেকে। সবচেয়ে কম এনজিও নির্ভরতা সিলেটে। এ বিভাগের ৪৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। গত বছর এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন রাজাশাহী বিভাগের ৭২ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৭০ দশমিক ৫১ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ৬০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৯ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৫২ শতাংশ এবং ময়মনসিংহের ৪৮ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার।

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের লিড ইকনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, মুনাফা কম হবে এমন বিবেচনায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রামে শাখা খোলে না। সরকারি ব্যাংকের বেশ কিছু শাখা গ্রামাঞ্চলে থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ঋণ আবেদন করতে হয় সনাতনী পদ্ধতিতে। অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হয়। জামানত হিসাবেও কিছু জমা রাখতে হয়। আবার ঋণ পেতে তদবিরও লাগে বা যোগাযোগ থাকতে হয়। এসব কারণে কম সুদে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ পল্লী এলাকার বেশির ভাগ মানুষ পাচ্ছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কারণে এনজিও নির্ভরতা বাড়ছে। এনজিওগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়। এ ক্ষেত্রে জামানতের ঝামেলাও নেই। আবেদন ফরম পূরণের কাজটিও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা করে দিচ্ছেন। তাদের ঋণও খুব সহজলভ্য। তবে সুদহার বেশি।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি জরিপ প্রকল্পের পরিচালক আকতার হাসান খান বলেন, খুব অল্প সংখ্যক ব্যক্তি মহাজনি ঋণ নিলেও এর পরিমাণ অনেক বেশি। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে ঋণের দরকার হলে গ্রামের মানুষ মহাজনদের কাছে ছুটে যান। এ ছাড়া এনওজিগুলোর ঋণের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ার কারণেও অনেকে মহাজনের কাছ থেকে উচ্চ সুদে বেশি ঋণ নিতে বাধ্য হন।

জরিপে দেখা যায়, গ্রহীতাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়েছে কৃষি খাতের উপকরণ (বীজ, সার) কেনার জন্য। গবাদি পশু কিনতে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, চিকিৎসার জন্য ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, সন্তানের শিক্ষার খরচ জোগাতে ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়েছে সন্তানের বিয়ের খরচ জোগান দিতে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments