এক ব্যাটিংয়েই তো কত যুদ্ধ

207

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বড় মঞ্চ এবং বড় উপলক্ষে তাঁর ঝলসে ওঠার সামর্থ্য এমন পরীক্ষিত যে আজ এজবাস্টনের সেমিফাইনালে স্টিভ স্মিথই ইংল্যান্ডের জন্য মূল হুমকি হয়ে উঠবেন না, তা কে বলতে পারে? গত বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কের যা পারফরম্যান্স ছিল, তাতে সে সম্ভাবনা আছে যথেষ্টই। অবশ্য সেই সাফল্য তিন নম্বরে ব্যাটিং করে।

স্মিথ এই বিশ্বকাপেও তিন নম্বরে ব্যাটিং করেছেন। তবে মাত্র দুই ম্যাচে। সব ম্যাচেই কেন নয়, সে প্রশ্নও তাই তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান তিনে খেলেছেন। আসরের অন্য তিন সেমিফাইনালিস্ট দলও নিজেদের সেরা ব্যাটসম্যানকে ওই জায়গাতেই ব্যাটিং করিয়ে আসছে। ভারতের বিরাট কোহলি, নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন এবং ইংল্যান্ডের জো রুটদের জন্য তিন নম্বরই বরাদ্দ। পেছনে যখন গত বিশ্বকাপ জেতার পথে স্মিথের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের স্মৃতি, তখন আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া তাঁকে উঠিয়ে আনতে পারে তিনেই। অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চও দিয়েছেন তেমন ইঙ্গিতই।

একটু পেছন ফিরে তাকালেই মিলবে যুক্তিও। ভারতের বিপক্ষে ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই যেমন খেলেছিলেন ৯৩ বলে ১০৫ রানের এক বিস্ফোরক ম্যাচ জেতানো ইনিংস। সেবার পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতা অস্ট্রেলিয়া কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ফাইনালেও স্মিথের ব্যাটে পেয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ দু-দুটি হাফ সেঞ্চুরি। এবার সেই নক আউট পর্বেই তাই আবার স্মিথকে তিনে তুলে আনার পরিকল্পনা।

যদিও ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের সমস্ত বোলিং পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার রসদ কম মজুদ নেই স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনেও। ওয়ানডেতে ইংলিশদের বিশ্বকাপ শিরোপার দাবিদার হওয়ার মতো দল হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অধিনায়ক এউইন মরগানের অবদানও তো কম নয়। ২৭ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তোলা অধিনায়ক ব্যাট হাতেও প্রতিপক্ষের বোলিংকে ছিন্নভিন্ন করতে জানেন। যা কম জানা নেই ইংলিশ ওপেনার জনি বেয়ারস্টোরও। ইংল্যান্ডের অনিশ্চিত হয়ে পড়া সেমিফাইনালও তো নিশ্চিত হয়েছে তাঁর জোড়া সেঞ্চুরিতে। তাও আবার সে দুটো প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের ওপর দারুণ চড়াও হয়ে করা সেঞ্চুরিও। ভারতের বিপক্ষে ১১১ রানের ইনিংস খেলা বেয়ারস্টোর ব্যাটে পুড়েছে নিউজিল্যান্ডও। ওই ম্যাচে খেলেছেন ১০৬ রানের ইনিংস। এদিকে আবার চোট কাটিয়ে ফিরেছেন তাঁর ওপেনিং পার্টনার জেসন রয়ও। কাজেই গত সাত আসরের মধ্যে ষষ্ঠবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠা অস্ট্রেলিয়ার ফাইনালের পথে কাঁটা বিছাতে তৈরি হয়ে আছেন এই দুই ইংলিশ ওপেনারও।

আবার পাল্টা কাঁটার আঘাতে ইংলিশ বোলিংকে ক্ষতবিক্ষত করতে কম তৈরি হয়ে নেই দুই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারও—ডেভিড ওয়ার্নার এবং অধিনায়ক ফিঞ্চ নিজেই। দুই সেঞ্চুরি আর তিন ফিফটিতে ইতিমধ্যে ৫০৭ রান করে ফেলা ফিঞ্চের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করা ওয়ার্নার একটু এগিয়েই আছেন। তিনটি করে সেঞ্চুরি আর ফিফটিতে এই আসরে ৬৩৮ রান করা হয়ে গেছে এই বাঁহাতি ওপেনারের। সবার সব দিন অবশ্য ভালো যায় না। যেতে নাও পারে ফিঞ্চ কিংবা ওয়ার্নারের। তবে সে ক্ষেত্রেও অস্ট্রেলিয়া থাকতে পারে স্মিথ ঝলকের অপেক্ষায়। গত বিশ্বকাপেও তিনে নেমে যিনি নিরাশ করেননি। আবার ইংলিশ ব্যাটিংয়ে তিনে নেমে দলকে পথ দেখানোর দৃঢ়তাও কম ঘোষিত হয়নি জো রুটের ব্যাটে। কাজেই ব্যাটিংয়ের দিক থেকে কেউ কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই। বরং এক ব্যাটিংয়েই তো দুই দলের মধ্যে কত লড়াই!

আস/এসআইসু

Facebook Comments