এত ধর্ষণ কলাপাড়ায়!

245

মোঃ পারভেজ,কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালী কলাপাড়ায় ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রমজানপুর গ্রামে জঙ্গলে নিয়ে নাবালিকা শিশুকে ধর্ষনের ঘটনায় অভিযুক্ত শাহীনকে পুলিশ ১১দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি।উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বিকালে মায়ের জন্য পান সুপারি ও ভেঙ্গে যাওয়া মোবাইলের ডিসপ্লে ঠিক করতে রমজানপুর গ্রাম থেকে পাশ্ববর্তী তেগাছিয়া বাজারে যায় ওই কিশোরী। সন্ধার দিকে বাসায় ফেরার পথে রমজানপুর গ্রামের আনোয়ার সরদারের ছেলে শাহীন সরদার (৩০) তার মুখ চেপে ধরে রাস্তা থেকে কিছু দূরে জঙ্গলে নিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষন করে। এসময় শিশুর ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে শাহীন পালিয়ে যায়।

রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোরীকে প্রথমে বাসায় নিয়ে যায় গ্রামবাসীরা। কিন্তু তার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে রাত দেড়টায় তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।এ ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা সালিশ রফার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় মহিপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।মহিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব হোসেন জানান, আসামিকে ধরতে তারা এলাকা ছাড়াও পাশের উপজেলায় পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেছেন।

বর্তমানে দরিদ্র এ পরিবারে সকল ধরনের সহায়তা দেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।অপরদিকে পশ্চিম চাপলী গ্রামে স্বামী সিদ্দিককে মারধর করে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম মাঝিসহ শাহীন, শাকিল ও রশিদকে আদালত জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। আসামিরা উচ্চ আদালতের আগামজামিনের সময় শেষ হওয়ার পর পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে রবিবার জামিনের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।গত ১৫ এপ্রিল রাতে ওই নারীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। ইতোপুর্বে মহিপুর পুলিশ এ মামলায় দুই আসামি রবিউলও মামুনকে গ্রেফতার করেছে।এদিকে ১৫ এপ্রিল রাতে স্ত্রীকে নিয়ে খালা হাসিনা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যায় সিদ্দিক হাওলাদার। খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘরে বসে কথা বলছিলেন তারা।

এসময় আসামিরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঢুকে সিদ্দিক হাওলাদারকে মারধর করে বেঁধে প্রথম দফায় এবং দ্বিতীয় দফায় পাশে থাকামাছের ঘেরে নিয়ে গৃহবধুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে অসুস্থ্য অবস্থায় পাশের এলাকার মেম্বার আনোয়ার ফকিরের বাড়িতে রেখে যায়।এ ঘটনায় মহিপুর থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন গৃহবধূরস্বামী। এরপর প্রভাবশালী আসামীরা উচ্চআদালত থেকে জামিনে এসে মামলা প্রত্যাহারে স্থানীয়দের নিয়ে চাপলি বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের মৌলভীতবক গ্রামে সন্ধ্যা রাতে ঘর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষন করা হয় এক নববধূকে।

এর ক’দিনপর টিয়াখালী ইউনিয়নের এক স্কুল ছাত্রীকে স্কুল ফেরার পথে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে কুয়াকাটার আসাসিক হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষন করা হয়।এসব ঘটনায় প্রভাবশালী আসামিদের পক্ষে তদ্বির হচ্ছে অহরহ। এমনকি এসব ঘটনার আলামত নষ্ট করতে মোটা অংকের মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। যদিও এর আগে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন রাঙ্গাবালীর একটি ধর্ষন-হত্যা মামলার আলামত নষ্ট করার জন্য হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তারপরও কি প্রভাবশালীদের তদ্বিরে এসব চাঞ্চল্যকর ধর্ষন মামলার আলামত নষ্ট হয়ে যাবে? পার পেয়ে যাবে কি প্রভাবশালীধর্ষকরা? এমন সব প্রশ্নই কলাপাড়ায় বাস করা সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments