এবার ঢাকা মাতাবে ‘মেসি’

261

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আর কয়েক দিন বাদেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা। আর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরুর খামারগুলো নড়েচড়ে বসছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে ঈদের পশুর হাট। তবে হাট বসার আগেই সুবিধামত দামে কেনাবেচা হচ্ছে বড় জাতের গরু। আবার কেজি মেপেও বিক্রি হচ্ছে। তবে সেটা খামারভেদে ভিন্ন রকম। কোন খামারে ৪০০ কেজি পর্যন্ত গরু আবার কোনো খামারে ৬০০ কেজি পর্যন্ত ওজনে বিক্রি হচ্ছে।

কেউ যদি ওজনে নিতে চান তাহলে গরু পছন্দ করে মাপার যন্ত্রের উপর উঠিয়ে দাম দিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। দামও ৩৭৫ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি পর্যন্ত। রাজধানীর বেড়িবাঁধের পাশে গড়ে ওঠা কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা গেছে ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির গরু।
কুরবানির পশু

যে কয়েকটি খামার রয়েছে তারমধ্যে সাদিক অ্যাগ্রো হচ্ছে সবচেয়ে বড়। এর আবার কয়েকটি শাখাও রয়েছে। সাত মসজিদ রোডের মাথায় যে খামারটি রয়েছে তাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ গরু রয়েছে। অন্যদিকে বেঙ্গল ফার্মাস হাউজে দেখা গেছে সাড়ে ৩০০ গরুর খামার। এরকম আরও বেশ কয়েকটি খামারে সরাসরি গরু কেনাবেচা হচ্ছে।

বেঙ্গল অ্যাগ্রোতে পাওয়া যাচ্ছে দেশী, অস্ট্রেলিয়ান, নেপালি, রাজস্থানি, উলবড়িয়া, ইন্ডিয়ান, হরিণি জাতের গরু। দেড় লাখ থেকে ১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের গরু রয়েছে খামারে।

বেঙ্গল অ্যাগ্রোর ইনচার্জ জহির বলেন, আমাদের এই খামারে যেসকল গরু রয়েছে সেগুলোর কোনটি ৬ মাস কোনটি দেড় বছর আবার কোনটি এক বছর আগে কেনা। এখানে আসার পর অতিরিক্ত যত্ন দিয়ে বড় করা হচ্ছে। একটি গরু এক লাখ টাকা দিয়ে কেনার পর সেই গরু এখন দাম উঠছে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা।
কুরবানির পশু

তিনি বলেন, এবার গরুও রয়েছে অনেক, আবার ক্রেতাদের চাহিদা দেখে মনে হচ্ছে গরুর দাম চড়া হবে। তবে এখনই বলা যাচ্ছে না। এখনও হাটের বাকি কয়েক সপ্তাহ। যদিও আমাদের খামারের গরু হাটে উঠানো হবে না, এখান থেকেই সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে।

প্রায় একই কথা সাদিক অ্যাগ্রোর ইনচার্জ মাইদুল ইসলামের। তিনি বলেন, আমাদের গরু হাটে উঠানো লাগে না। এরইমধ্যে গরু বিক্রি শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আমাদের সবচেয়ে বড় গরু ‘বস’ বিক্রি হয়েছে ৩৭ লাখ টাকায়। আমাদের এখানে টাইটানিক নামে আরেকটি গরু রয়েছে যার দাম প্রত্যাশা করছি ৫০ লাখ টাকা।

সাদিক অ্যাগ্রোতে পাওয়া যাবে হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইটানিক’। টাইটানিকের ওজন ১৫০০ কেজি। এরপর রয়েছে ব্রাহমা জাতের গরু। আদর করে নাম দেওয়া হয়েছে ‘বস’। এই গরুটির ওজন ১৪০০ কেজি। দুই দিন আগে বস বিক্রি হয়েছে ৩৭ লাখ টাকায়। অন্যদিকে টাইটানিকের দাম চাওয়া হচ্ছে ৫০ লাখ টাকা।
কুরবানির পশু

উচ্চতায় ৬ ফুট, লম্বায় ৮ ফুট আকৃতির ব্রাহমা জাতের গরু নামকরণ করা হয়েছে ‘মেসি’। মেসির বর্তমান ওজন ১২০০ কেজির উপরে, বাদামী রং এর আরো দুইটি গরু রয়েছে যাদের নাম রোজো। এই গুরু ওজন ১১০০ কেজির উপরে। কালা কুচকুচে রং এর আরেকটা গরু আছে যে গরুটির এখনো নাম করণ করা হয়নি। এই গরুর ওজনও ১২০০ কেজির উপরে।

প্রতিবছরের মত এবারও রাজধানীতে গাবতলী স্থায়ী পশু হাটসহ মোট ২৪টি স্থানে পশুর হাট বসবে। তারমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১০টি স্থানে আর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৪ স্থানে বসবে পশুর হাট। নিয়ম অনুযায়ী ঈদের তিন দিন আগ থেকে এসব হাটে পশু কেনাবেচা শুরু হবে। তবে তার আগ থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন হাটে গরু উঠতে শুরু করবে।
কুরবানির পশু

গত বৃহস্পতিবার ১৭ জুলাই মৎস ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু জানিয়েছেন, এ বছর কোরবানির জন্য ১ কোটি ৮ লাখ পশুর চাহিদা রয়েছে। তবে চাহিদার চেয়ে ১০ লাখ বেশি পশু রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্যমতে গত বছর কোরবানি পশুর চাহিদা ছিল ১ কোটি ৫ লাখ। গতবার চাহিদা পূরণ করে আরও বাড়তি পশু ছিল। জনসংখ্যা বৃদ্ধির আনুমানিক হার ধরে এবার চাহিদা টার্গেট করা হয়েছে। ১ কোটি ৮ লাখ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments