ওষুধ দোকানদার ও হল পরিদর্শকের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন

262

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ফেনী সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে ১৬ জন আসামিকে আদালতে তোলা হয়েছে। মামলার সাক্ষি ওষুধ দোকানদার জহিরুল ইসলাম ও হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।

এদিকে, মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদোলার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে আদালত। আগামী ১৭ জুলাই আদালত তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি হবে। পিবিআই এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন নিম্ন আদালতে। এছাড়া আগামীকাল বুধবার (১০ জুলাই) নুসরাতের মা শিরিন আকতার শিক্ষক ও আবুল খায়ের আদালতে সাক্ষ্য দিবেন। এ পর্যন্ত ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। বিচারক মামুনুর রশীদ বুধবার পর্যন্ত আদালত মূলতবি ঘোষণা করেন।

এর আগে হত্যা মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে ৭ জন সাক্ষি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২৮ মে ফেনীর আমলী আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এর পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮৬৯ পৃষ্ঠা সম্বলিত নথি ও অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর গত ৩০ মে মামলার ধার্য তারিখে আসামিদেরকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানী না করে ওই মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানির শুরু করে ২০ জুন মামলার চার্জশিটের উপর শুনানী শেষে এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান ওরফে রাফিকে গত ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে মারা যায়। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদি হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদেরকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ও পিবিআই এ মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এর আগে গত ২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে শ্লীলতাহানির করে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা। এঘটনায় নুসরাত রাফির মা বাদি হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পিবিআই ৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করলে আদালত তা অনুমোদন করে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মেলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া যৌন হয়রানির মামলার পর নুসরাত রাফির জবানবন্দি গ্রহণের সময় তার ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় সাইবার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সোনাগাজী মডেল থানার তৎকালীন ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন কারাগারে রয়েছেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments