ওয়ারীতে ধর্ষণের পর শিশু আফরিন হত্যায় আটক ৬

197

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পুরান ঢাকার বনগ্রাম টাওয়ার থেকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ওই ভবনের কেয়ারটেকার ও দারোয়ানসহ ৬ জনকে আটক করেছে ওয়ারী থানা পুলিশ। ঘটনার মোটিভ জানতে এবং রহস্য উদঘাটনে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শিশু আফরিনের বাবা বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত শিশুটির নাম আফরিন সায়মা (৮)। তার বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। সালামের দুই ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা ওয়ারীর সিলভারডেল স্কুলে নার্সারিতে পড়ত।

ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ জানান, শিশু সায়মার গলায় দাগ রয়েছে। এছাড়া ঠোঁটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে একটি বহুতল ভবনের নয় তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটে সায়মার মরদেহ পাওয়া যায়। ওই ভবনের ষষ্ঠ তলায় সায়মা তার পরিবারের সঙ্গে থাকত।

নিহত সামিয়ার বাবা আবদুস সালাম বলেন, মাগরিবের আজানের সময় আমি নামাজ পড়তে মসজিদে যাই। মসজিদ থেকে ফেরার সময় সন্ধ্যার নাশতা কিনে বাসায় আসি। বাসায় এসে দেখি সামিয়া নেই। আমি ও আমার স্ত্রী তাকে খুঁজতে শুরু করি। পরে ৮ তলার রান্নাঘরে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নুরুল আমিন বলেন, সায়মা সন্ধ্যায় ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তার মাকে বলেছিল, সে উপরে পাশের ফ্ল্যাটের যাচ্ছে একটু খেলতে। সে প্রতিদিন বিকালে নিচে ও ভবনের উপরের ফ্ল্যাটে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে যেত। কিন্তু এদিন গিয়ে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে ৯ তলায় খালি ফ্ল্যাটের ভেতরে গলায় রশি দিয়ে মুখ বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় পরিবার। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার ও ময়না তদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় ৬ জনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments