কলাপাড়ায় হাসপাতাল সড়কের মালিকানা জটিলতায় আটকে আছে সংস্কার কাজ

200

মোঃ পারভেজ কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

কুয়াকাটা-পটুয়াখালী মহাসড়কের শেখ কামাল সেতু সংলগ্ন সড়কটিতে বড় বড় খানা-খঁন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল ক্রমশ: ঝূঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে এ সড়কে।কলাপাড়া পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কের কথা শুনলেই আঁতকে ওঠেন যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত হালকা যান চালকরা।পৌরসভা বলছে এ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের, আর সওজ বলছে শেখ কামাল সেতু নির্মানের পর ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটি এখন পরিত্যক্ত।তবে গুরুত্বপূর্ন এ সড়কটিতে মেয়র, কাউন্সিলরসহ কতিপয় প্রভাবশালীদের মালিকানাধীন অর্ধশত ইটভাটার ইটবহনকারী থ্রি হুইলার, ব্যবসায়ীদের পন্য বোঝাই ট্রাক ও পিকআপসহ ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চলাচল করায় ভোগান্তি পিছু ছাড়ছেনা পৌরবাসীর। আর এতে প্রতিনিয়ত দূর্ভোগে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসুস্থ্য নারী-শিশু, আদালতে হাজিরা দিতে আসা বিচার প্রার্থী মানুষসহ ঢাকার বাস ষ্ট্যান্ডে গমনকারী দুরপাল্লার যাত্রীরা।

জানা যায়, পৌরশহরের ফেরী ঘাট চৌরাস্তা থেকে বাস ষ্ট্যান্ড পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ন এ সড়কের মাত্র কয়েকশ’ মিটার অংশে, শেখ কামাল সেতুর নীচে ও হাসপাতালের সম্মূখে খানা খঁন্দকের কারনে সড়কটিতে ক্রমশ: বাড়ছে নাগরিক দূর্ভোগ। প্রতিদিন ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে এখানে। অথচ সড়কটি রক্ষনাবেক্ষন নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন দায় নেই।গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের এ পথ দিয়ে হাসপাতাল যাওয়া এখন অধিক ঝূঁকিপূর্ন। যদিও পৌরসভা কয়েকটি ভাঙ্গা ইটের টুকরো ফেলে ‘আই ওয়াশ’ মূলক মেরামত কাজ করেছে দু’একবার। কিন্তু তারপরও নাগরিক দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা পৌরবাসীর।পৌরসভার একাধিক নাগরিক জানান, হাসপাতালের সামনের ওই পথটুকু পার হতে হয় এখন ‘যুদ্ধ’ করে।

প্রতিদিনই দুই একটি যানবাহন উল্টে গিয়ে দূর্ঘটনা ঘটছে ওখানে। থ্রি-হুইলারসহ ভারী যান চলাচলে শহরের অধিকাংশ সড়কের এখন এমন বেহাল দশা। এছাড়া সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের ফলে সড়ক গুলোতে ব্যবহৃত নিম্ন মানের উপকরন সামগ্রী সহজেই ভেঙ্গে আসল চিত্র বেড়িয়ে পড়েছে জন সম্মূখে। পৌর শহরের সাধারন নাগরিকরা হাসপাতাল সড়কে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হলেও মুখ খুলছেন না তারা। কেননা মেয়র, কাউন্সিলর সহ প্রভাবশালীদের অর্ধশত ইটভাটার ভারী যান চলাচলে সড়কের বুকে এ খানা-খঁন্দক।

তবে এনিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসুস্থ্য রোগীর স্বজনসহ আদালত সংশ্লিষ্টরা।পৌরসভার প্রকৌশলী বলছেন এটি সওজের, আর সওজ বলছে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দেখছি কি করা যায়। কিন্তু এটি সংস্কারে উদ্দোগ না থাকায় দূর্ভোগ লাঘব হচ্ছেনা নাগরিকদের। হাসপাতাল সড়কের সামনের খানা-খঁন্দকের উপর দিয়ে অটো রিকশা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা ও নসিমনসহ হালকা যানবাহন চলাচলে পৌরসভার উন্নয়নের চিত্র দেখছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: আনিচুর রহমান জানান, প্রতিদিন এ পথে আদালতে যেতে আসতে সমস্যা হচ্ছে আদালতের বিচার প্রার্থী মানুষসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এটি জরুরী ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিৎ।

উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা: চিন্ময় হাওলাদার জানান, রোগীদের নিরাপদে হাসপাতালে আসা যাওয়ার এই সড়কটি সবচেয়ে ভাল থাকা দরকার। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরী ভিত্তিতে সড়কটি মেরামত করে চলাচল উপযোগী করার জন্য অনুরোধ করছি।এ বিষয়ে কলাপাড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো: মিজানুজ্জামান জানান, ওই সড়কটি সওজ’র। তাই এর সংস্কারে কোন পদক্ষেপ নেই পৌরসভার। সওজ কর্তৃপক্ষ যদি এটি পৌরসভাকে হস্তান্তর করে তবে পৌরসভা ওই সড়কের উন্নয়নে সবরকম ব্যবস্থা নেবে।সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মো: শামস্ মোকাদ্দের জানান, ওই সড়কটি ফেরী ঘাটের সাথে সংযোগ ছিল। ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে শেখ কামাল সেতুর উপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। তাই দীর্ঘদিনেও সড়কের ওই অংশে কোন কাজ না হওয়ায় এটি এখন নালায় পরিনত হয়েছে।সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে কোন পরিকল্পনা আছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments