কলাপাড়ায় ১২ গ্রামের মানুষের চোখে বেঁচে থাকার স্বপ্ন,আন্ধারমানিক পাড়ের রিং বেড়িবাঁধ

179

মোঃ পারভেজ কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আন্ধারমানিক পাড়ের বিধ্বস্ত নিজামপুর বেড়িবাঁধ মেরামত হয়ে নতুন রিং বেড়িবাঁধ হওয়ায় নিজামপুর, নজিবপুর, বিপিনপুর, সুধীরপুর, কমরপুর,পুরান মহিপুর, ইউসুফপুর, মনোহরপুর, লতিফপুর, মোয়াজ্জেমপুর, নিজ শিববাড়িয়া সহ ১২ গ্রামের মানুষের চোখে বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

এখন আর ভাঙ্গা বেড়িবাঁধে অস্বাভিক জোয়ারের পানি এসে প্লাবিত হবেনা আবাদি জমি, বসতভিটা,মাছের ঘের, পুকুর, সবজি বাগান। মাঠ জুড়ে থাকবে সবুজের হাতছানি। উৎপাদিত হবে ফসল। দীর্ঘদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে কৃষক। আগামীর সম্ভাবনার এমন স্বপ্ন এখন হাজারো কৃষকের চোখে।স্থানীয়রা জানায়, ২০০৭ সালের ভয়াল সিডরের তান্ডবে বিধস্ত হয় নিজামপুরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে জরুরী ভিত্তিতে বেশ কয়েকবার বাঁধ নির্মান করা হয়। কিন্তু পাউবো’র দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের দুর্নীতি-অনিয়মে দায়সারা গোছের কাজ হওয়ায় বেশীদিন টেকেনি তা।এরপর ঘূর্নিঝড় আইলা, মহাসেন, ফনী’র তান্ডবে ফের ভাঙে কৃষকের স্বপ্ন। ফলে বর্ষায় জোয়ারের পানিতে ভাসে গ্রামের পর গ্রাম। ভাটায় নদীর পাড় পর্যন্ত শুকিয়ে গেলেও জোয়ারের পানি আটকে থাকে গ্রামের নিছু এলাকায়। ডুবে থাকে চাষাবাদের জমি।দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এ সমস্যায় ব্যহত হয় কৃষিকাজ, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বর্ষা মৌসুমে বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা।

চরদিকের থৈ থৈ পানিতে স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন।এনিয়ে গনমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশে সরকার উদ্দোগ নেয় জরুরী ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ এলাকায় রিং বেড়িবাঁধ নির্মানের। যা গতবছর শুরু হয়ে এবছর শেষ হয়। এরপর ফের উদ্দোগ নেয়া হয়েছে রিভার সাইডে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর।নিজামপুর গ্রামের কৃষক ফেরদৌস জানান, নিজ গ্রাম পানি বন্দী থাকায় অন্য গ্রামে বীজতলা তৈরি করতে হয়েছে। বাঁধ র্নিমানের ফলে এখন আর থাকবে না এ সমস্যা।পুরান মহিপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল জানান, প্রায় পঞ্চাঁশ হাজার টাকা খরচ করে বিগত বছর আমন মৌসুমে পনের বিঘা জমি চাষাবাদ করেছেন তিনি। ধান পেয়েছেন মাত্র সতের মন। অন্য সময়ে এই জমি চাষে তিনি পেয়েছেন প্রায় তিন’শ মণ ধান।নিজামপুরের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান, পলি জমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।আগামী বর্ষা মৌসুমে আমন ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন ১২ গ্রামের হাজারো কৃষক।

আগামী দিনে ভাল ফলনের মাধ্যমে পুষিয়ে নিতে পারবেন তাদের ক্ষতি।নুরজাহান বেগম জানান, জোয়ারের পানির ঝাপটায়তার ঘরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বাঁধ র্নিমানের ফলে এখন আর ঘর নষ্টের শংকা নেই। তাই তিনি নতুন নতুন একটি ঘর নির্মান করেছেন। এবছর পুকরে মাছ চাষ করেছেন।মহিপুর ইউপি’র নজিবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সোবাহান জানান, বর্ষা মৌসুমে পানিতে গ্রামের পর গ্রাম ডুবে থাকায় জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি দিয়েছিল। রিং বেড়িবাঁধ র্নিমানের সংবাদে সেসব মানুষ এখন আসতে শুরু করেছেন।পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া অফিস সূত্র জানায়, রিং বেড়িবাঁধের রিভার সাইডে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনের কবল থেকে বাঁধকে সুরক্ষার উদ্দোগ নেয়া হচ্ছে। যা শীঘ্রই শুরু করা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments