কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন ধোনি, ভিডিও ভাইরাল

191

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রান আউটে শুরু। রান আউটেই শেষ? মাঝে এক দশকেরও বেশি ধোনি। ক্যাবিনেটে আইসিসির সব ট্রফি। ম্যাঞ্চেস্টারের রান আউট কোথাও যেন মিলিয়ে দিল পনেরো বছর আগের সেই ২৩ বছরের রাঁচির যুবককে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঢাকায় কেরিয়ারের প্রথম ম্যাচ। মোহম্মদ কাইফের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়েছিলেন অনভিজ্ঞ মহেন্দ্র সিং ধোনি। তাও আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম বলে।

ম্যাঞ্চেস্টারে রান আউট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে একেবারে ফিনিশিং লাইনের কাছাকাছি পৌঁছে যান মি. ফিনিশার। কিন্তু স্কোয়ার লেগ থেকে মার্টিন গাপ্টিলের অবিশ্বাস্য থ্রো। ক্রিজে ঢুকতে মরিয়া ধোনি তখন ইঞ্চি খানেক বাইরে। আর সেখানেই স্বপ্ন শেষ হলো টিম ইন্ডিয়ার।

বুধবার পাঁচ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে প্রথমে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারত যখন বিপদে, তখনও ধোনি কেন ব্যাটিংয়ে নেই? এমন প্রশ্ন উঠেছিল কমেন্ট্রি বক্স থেকেও। তবে খেলায় শুভ সমাপ্তি টানতে রিজার্ভ ডেতে সম্পূর্ণ দায়িত্বও এসে পড়ে ধোনির কাঁধে। উইকেটের একপ্রান্ত সামলে নিচ্ছিলেন এই সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক। যদিও ম্যাচ ফিনিশ করতে পারেননি। গাপটিলের অসাধারণ থ্রোতে রান আউট হয়ে টেল-এন্ডারদের হাতে ম্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ৭২ বলে ৫০ রান করেন তিনি। তবে এই অর্ধশতক যে মোটেই সুখকর ছিল না ধোনির জন্য তা বেশ বোঝা যাচ্ছিল সাজঘরে যখন ফিরছিলেন তিনি।

কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন ধোনি। আর ধোনির সেই কান্না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে রীতিমতো ভাইরাল। এ নিয়ে চলছে আলোচনার ঝড়।

ধোনি যখন কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়ছিলেন, সেই ছবি টিভি স্ক্রিনে ফুটে ওঠে। আর তা দেখে গ্যালারির ভারতীয় সমর্থকরাও আপ্লুত হয়ে ওঠেন। অনেকেই কান্নারত ধোনির আবেগের সঙ্গে যুক্ত হন। ছোট্ট শিশুও বাদ যায়নি তখন। ধোনির আউটের পর ম্যাচ ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারে ওই খুদে সমর্থকও। অভিভাবককে জড়িয়ে ধরে সেও কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্ক্রিনে তা দেখে গোটা বিশ্ব। সূত্র: ইত্তেফাক।

‘নো’ বলে আউট হয়েছেন ধোনি!

ধোনির আউটের সময় বৃত্তের বাইরে অতিরিক্ত ফিল্ডার ছিল নিউজিল্যান্ডের। হিসেব মতো বলটা ‘নো’ হওয়া উচিত ছিল। যদিও হারের পরে এই সব তথ্য খুব গুরুত্ব পাবে কি না, সন্দেহ। ‘নো’ হলেও রান আউট হতে পারতেন ধোনি।

সমর্থকদের মতে, একটা বাজে দিন এভাবে শেষ করে দিতে পারে না একটা ভাল দলকে। মাঠ থেকে বেরনোর সময় রীতিমতো ভক্তদের ভিড়ের মাঝে পড়তে হয় সৌরভকে।

ভারতীয় সমর্থকেরা তাকে এমনই ঘিরে ধরেছিলেন যে, নিরাপত্তা কর্মীদের ডেকে সামাল দিতে হল। তার মধ্যেই বললেন, কোহালিরা ভাল খেলেছে। গোটা টুর্নামেন্টে ভাল খেলে এক দিনের খারাপ ক্রিকেটে বিদায় নেওয়াটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। সত্যিই হতাশজনক।’ চার নম্বর নিয়ে জট পাকিয়ে থাকা কতটা ক্ষতি করল? সৌরভ বললেন, ‘এটা ঠিক করে ফেলা উচিত ছিল আগেই। যার কথাই ভাবি না কেন, তাকে এক বছর ধরে খেলিয়ে তৈরি করা উচিত ছিল বিশ্বকাপের জন্য।’ কাপ হারানোর যন্ত্রণা কী, সৌরভ জানেন। গাড়িতে ওঠার আগে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে গেলেন, ‘ভেবেছিলাম লর্ডসে ফাইনাল খেলব। কী যে হয়ে গেল!

দিনের শেষ বিজয়ী অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন সব চেয়ে বেশি করে পাশে দাঁড়ালেন ভারতের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে কোহালির ভারত হারিয়েছিল উইলিয়ামসনের নিউজিল্যান্ডকে। সেই ইতিহাস বদলে দিয়ে উইলিয়ামসন বলে গেলেন, ভারত দারুণ দল। দুর্ধর্ষ সব ক্রিকেটার রয়েছে। ক্রিকেট খেলাটা অনেক আকর্ষণীয় করে তুলেছে ভারত। ভারতীয় সমর্থকদের বলব, ধৈর্য হারাবেন না।

তিনি আরও বলেছেন, ‘জেতায় আমরা অবশ্যই খুশি। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটকে অশ্রদ্ধা করার কোনও জায়গা নেই।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments