কালারপুল হাজী ওমরা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যত কান্ড

194

আনোয়ারা প্রতিনিধি

নারী কেলেংকারী, অর্থ আত্মসাৎ ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগের আলোকে তদন্তে প্রমাণ মিললেও বহাল তবিয়তে আছেন কালারপোল হাজী ওমরা মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরী! এমন দাবি তুলেছে একটি স্থানীয় স্বার্থন্বেসী মহল। অপর দিকে কর্ণফুলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল চন্দ্র নাথ অভিযোগ গুলোর তদন্ত করে দু’মাস আগেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর বরাবরে।

এই বিষয়ে, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল চন্দ্র নাথ বলেন, আমি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি দুমাস আগে ‘আমি শুনেছি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেছেন। আমি তো গত দুমাস আগে বিভিন্ন ডকুমেন্ট সহ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রেরণ করেছি।

অভিযোগ উঠেছে, নানা কারণে প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রচার মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিবেদন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিরও বিভিন্ন দুর্বলতা রয়েছে। ভেতরের গোমর ফাঁস হবে এমন আশঙ্কায় কমিটির সভাপতির মুখ বন্ধ। অপরদিকে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ গোপনে প্রধান শিক্ষককে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যারা কিছুদিন আগেও প্রধান শিক্ষকের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে প্রকাশ্য কাজ করেছিল।

খবর নিয়ে জানা যায়, কালারপোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরীর উক্ত বিদ্যালয়ে যোগদানের মাত্র ১বছরের মাথায় শিক্ষার ব্যাপক মানোন্নয়ন হয়েছে। গত ২০১৭ও ২০১৮ সালে জেএসসির ফলাফল চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফলের উপরে ছিল যা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিরল । কিন্তু পরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ কর্মে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নারী কেলেংকারী ও কোচিং বাণিজ্য-সহ নানা বিষয়ে অভিযোগ তুলে সাবেক ছাত্রদের একটি অংশ। যা প্রকৃত সত্য উচ্চতর তদন্তে বের হতে পারে। গতবছর শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদ উল হক চৌধুরী’র স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে লেখাপড়ার মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

গত ৮ জুলাই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে সাবেক ছাত্রদের একটি অংশের নেতৃত্বে মানববন্ধন করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি অধ্যাপক এম মহিউদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিষয়টির সিদ্ধান্ত নিতে স্কুলে বৈঠকে বসেছিলাম কিন্তু প্রধান শিক্ষক আসেন নি। শেষে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে এড়িয়ে যান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কিনা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে স্কুলে গেলে মারবে বলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে মহিউদ্দিন মুরাদ ও হাসান মুরাদ সাগর নামে দুজন স্থানীয় প্রভাবশালী লোক। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখেছেন আমি গেলে আমাকে স্কুল থেকে ঘাড় ধরে বের করে দিবে। তাই ভয়ে আমি স্কুলে যাইনি। তারা আমাকে না পেয়ে স্কুল কমিটির সদস্যদের নিয়ে আমাকে বহিষ্কার করার জন্য রেজুলেশন করতে বৈঠক দেয়। বৈঠকে সভাপতিসহ ৪জন উপস্থিত ছিলেন। বাকী সদস্যরা তাদের এহেন কর্মকান্ডে বিরক্তি হয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।এমতাবস্থায় বাকী সদস্যদের বাড়ী ও বাসায় গিয়ে ও মোবাইলে হুমকি দিয়ে জোর করে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করছে তারা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments