কুষ্টিয়ায় এক কলেজ শিক্ষকের লাঠিপেটায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা আহত

217

মোঃ রাছেল রানা জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ক্যাম্পাস এলাকায় ঝালমুড়ী বিক্রয়ের অপরাধে ফজলু মল্লিক নামের একজনকে বেধড়ক লাঠিপেটা করেছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহ্সান কবীর রানা। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফুসে উঠে ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখা যায় ঝালমুড়ী বিক্রেতা ফজলু মল্লিকের পা থেকে ঘাড় পর্যন্ত সারা জায়গায় লাঠির আঘাতে চিহ্ন রয়েছে এবং ফুলে রয়েছে।

উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বললে তারা জানান,জাহিদ ও সালাম নামের দুই কর্মচারী এসে ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে বলে স্যার ডাকছেন বলে ফজলু মামাকে অফিসে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর দেখি ফজলু মামা কাঁদতে কাঁদতে অফিস থেকে বেরিয়ে আসছে। পরে দেখি তার সারা শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন । স্যার যেভাবে ঝালমুড়ী বিক্রেতাকে পিটিয়েছে এভাবে একজন চোরকেও মানুষ পিটাই না। এই ফজলু মামা সারা দিন ঝালমুড়ী বিক্রি করে আর সন্ধ্যয় সব কাগজ কুড়িয়ে পুড়িয়ে দেয়।

ফজলু মল্লিক জানান, আমি ৮ বছর ধরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস এরিয়ায় ঝালমুড়ী বিক্রয় করে আসছি। প্রতিদিনের মত আজও ঝালমুড়ী বিক্রয় করতে এসেছিলাম। হঠাৎ রানা স্যার আমাকে ডেকে তার রুমে নিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। সে সময় আমাকে মারছেন কেন জিজ্ঞাসা করায় আরো বেশি মারধর করে রানা স্যার। আমার সারা শরীরে লাঠি দিয়ে পেটাই। আমার বাম হাত নাড়াতে পারছিনা। পরে ফজলু মল্লিকের পরিবারের লোকজন এসে ফজলু মল্লিক কে চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। ঝালমুড়ি বিক্রেতা ফজলু মল্লিক কুষ্টিয়া কোর্ট পাড়াা এলাকার আকবর মল্লিকের ছেলে।

এদিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহ্সান কবীর রানার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা ক্যাম্পাস এরিয়া বহিরাগত মুক্ত করার চেষ্টা করছি। এতে কারো সাথে একটু আধটু ধাক্কাধাক্কি হতেই পারে। ক্যাম্পাস এড়িয়া বহিরাগত, মাদক ও ইভটিজিং মুক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

উপস্থিত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ আহসান কভির রানা একজন বদ মেজাজি শিক্ষক। তিনি শিক্ষকের ভূমিকায় না থেকে এক মাস্তানের ভূমিকায় থাকেন। যে কারনে ভয়ে কোন বিষয়ে তার কাছে শিক্ষার্থীরা কিছু জানতে চাওয়ার সাহস পাইনা। ওই শিক্ষককে সামনে কেউ কিছু না বললেও আড়ালে মাস্তান স্যার বলেই ডাকেন শিক্ষার্থীরা ।

Facebook Comments