খানাখন্দে ভরা সুন্দরগঞ্জ কামারজানি বাঁধ সড়ক

178

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ-কামারজানি ভায়া বেলকা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক। সম্প্রতি অবিরাম বৃষ্টির কারণে এই সড়কে একাধিক বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহন, পথচারী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

সরেজমিন জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরের সাথে উপজেলার পূর্বাঞ্চল কাপাসিয়া, চণ্ডিপুর, শ্রীপুর, হরিপুর, কঞ্চিবাড়ি, শান্তিরাম ও বেলকা ইউনিয়নবাসীর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এই বাঁধের সড়ক। এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল করে কমপক্ষে দেড় হাজার ছোটো-বড়ো যানবাহন। এছাড়া, কুড়িগ্রামের চিলমারি-সুন্দরগঞ্জের হরিপুর তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়ক হিসেবে ইতিমধ্যে এই বাঁধটিতে মাটি ভরাটের আংশিক কাজ করা হয়েছে। কিন্তু প্রায় মাসখানেক আগে অবিরাম বর্ষণের কারণে এই সড়কের ২০ হতে ৩০টি স্থানে বিরাট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বেলকা বাজার থেকে ধুমাইটারী পর্যন্ত রয়েছে এরকম পাঁচটি বড় গর্ত। যার কারণে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও দুই ও তিন চাকার যানবাহনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

পথচারী রাশেদুল আলম জানান, বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে যাওয়ায় সাবধানে চলাচল করতে হচ্ছে। ধুমাইটারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আফছানা খাতুন বলেন, বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বেলকা বাজারের অটোবাইক চালক তারাজুল ইসলাম জানান, রাতের বেলায় গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে অনেক ভয় হয়। যে কোনো মুহূর্তে সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার সতর্ক বার্তার সাইনবোর্ডও দেয়া হয়নি।

হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি জানান, তার ইউনিয়নের বিবিসির মোড় হতে পাঁচপীর বাজার পর্যন্ত ছোটো-বড়ো প্রায় ১০টি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্ল্যাহ জানান, তার ইউনিয়নের ধুমাইটারী ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় যে বিরাট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সেটি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে মেরামত করা সম্ভব নয়।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল মুনছুর জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। দ্রুত গর্ত ভরাটের ব্যবস্থা করার কথা বলে তিনি জানান, যদিও বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তারপরও এলজিইডির দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments