গতি বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যে

197

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বিভিন্ন দেশের কাস্টমস বিভাগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণে একটি আধুনিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ পরিকল্পনার আওতায় কাস্টমস বিভাগকে নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি কাজের ধরনেও বদল আনা হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়বে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

কাস্টমস আধুনিকায়নের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা (কাস্টমস মর্ডানাইজেশন স্ট্যাট্রেজিক অ্যাকশনপ্ল্যান ২০১৯-২০২২) প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তারা। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। আগামী চার বছর (২০১৯-২০২২) দেশে কাস্টমস বিভাগের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তার পথনকশা রয়েছে এ কর্মপরিকল্পনায়।

অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, একসময় কাস্টমস বিভাগের প্রধান দায়িত্ব ছিল শুধু রাজস্ব আহরণ করা। মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বিশ্বায়নের পরিপ্রেক্ষিতে সে ভূমিকা বদলে গেছে। রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি কাস্টমসের দায়িত্ব এখন নিরাপদ বাণিজ্য নিশ্চিত ও নাগরিকদের নিরাপত্তায় সুরক্ষা দেওয়া। নতুন কর্মপরিকল্পনায় এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তারা বলেন, কাস্টমস আধুনিকায়নের পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে পণ্যের শুল্ক্কায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) থেকে শুরু করে খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা যায়। এ প্রক্রিয়ায় সনাতন ব্যবস্থার পরিবর্তে ইলেকট্রনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, থাকবে না কোনো পেপারওয়ার্ক বা কাগুজে নথি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো। একই সঙ্গে করহার যৌক্তিকীকরণ করা। সেটা না হলে কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসবে না।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাণিজ্য সহায়ক এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে। দ্রুত শিল্পের প্রসার ঘটবে, যা সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। তরুণ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো পোস্টিংয়ের পেছনে দৌড়ালে হবে না, রাজস্ব আয় বাড়াতে আরও মনোযোগী হতে হবে। নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, অতীতে দেখা যায়, অনেক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও পরে টেকসই হয়নি। এর কারণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি। কারা কাজে মনোযোগী এবং কারা পোস্টিং নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন- এসব বিষয় এখন থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

এফবিসিসিআইএর সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যত পরিকল্পনাই নেওয়া হোক, মূল লক্ষ্য হতে হবে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডির অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী সংস্থা আইএফসির তত্ত্বাবধানে যৌথভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এনবিআর। এর মধ্যে কিছু উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পথনকশা ধরে কাজ এগোবে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস নিরীক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য) খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান।

কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য সম্পর্কে আমিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের হিস্যা বাড়াতে হলে কাস্টমসের আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। সে লক্ষ্য সামনে রেখে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া আট ঘণ্টার মধ্যে বন্দর থেকে পণ্য খালাস করছে। প্রতিবেশী ভারতে লাগে ৪৮ ঘণ্টা। অথচ বাংলাদেশে লাগছে কমপক্ষে আট দিন। এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে কাস্টমসে বৈপল্গবিক পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা বাড়বে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

সূচনা বক্তব্যে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেন্ট ফান্ডের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বলেন, উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে এনবিআরের নেওয়া সংস্কার কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে কাস্টমস কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এনবিআরের প্রথম সচিব রইচ উদ্দিন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments