গত বছরের এ সময় ঘাটগুলোতে রাত-দিন ছিল বেচাকেনা

161

আলোকিত সকাল ডেস্ক

মেঘনা নদীতে ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। সারা দিন-রাতে নদীতে জাল ফেলে প্রায় খালি হাতে অনেক জেলে ফিরে আসছেন। এতে ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের হাটবাজারগুলো। গত বছরের এই দিনে যেখানে লক্ষ্মীপুরের ঘাটগুলোতে রাত-দিন ইলিশ বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকতেন ক্রেতা ও বিক্রেতা, সেখানে এখন শূন্যতা বিরাজ করছে।

মেঘনার উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর ইলিশের আহরণক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার প্রধান পেশা কৃষি হলেও জেলার জনসংখ্যার বড় আরেকটি অংশ মত্স্য সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি হিসাবমতে, ৬২ হাজার জেলে এই পেশার সঙ্গে জড়িত থাকলেও বেসরকারি হিসাবে লক্ষাধিক মানুষ এই মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উত্পাদনের লক্ষ্য মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। জাটকা নিধনের কারণে মাছের আকাল বলে দাবি করেন জেলেরা। মাছ না পাওয়ায় হাজার হাজার জেলে পরিবারে হতাশা বিরাজ করছে। মাছের ঘাটগুলোতে ইলিশের আমদানি না হওয়ায় অলস সময় কাটাচ্ছেন জেলে ও আড়তদাররা।

মজু চৌধুরীর হাট, মতিরহাট, লধুয়াঘাট, মোল্লারহাট ও আলেকজান্ডার এলাকার মাছঘাটসহ বিভিন্ন হাটে ঘুরে দেখা যায়, ঘাটে তেমন মাছ নেই বললেই চলে। জেলে ও আড়তদাররা অলস সময় পার করছেন। এ সময় জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে অনেক আগে। কিন্তু নদীতে মাছ নেই। সারা দিন নদীতে জাল ফেলে এবং মাছ শিকার করলে দুই-চারটা মাছ পাওয়া যায়। এ দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেলের খরচও জোগাড় করা যায় না।

স্থানীয় জেলেরা জানান, ‘আমরা খুব কষ্টের মধ্যে আছি। আমাদের সংসার চালাতে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কীভাবে চলব সে চিন্তায় আছি।’

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এইচ এম মহিব উল্যাহ জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীববৈচিত্র্যের ওপর ভারসাম্যহীন আঘাতের কারণে মেঘনা নদীর গভীরতা ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ায় ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে নদীতে ভরা মৌসুমে ইলিশ মাছের অকাল দেখা দিয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments