গুজব ঠেকাতে আসছে জয় বাংলা অ্যাপস

172

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। দেশের অন্যতম এ স্থাপনার অনেকটাই এখন দৃশ্যমান। সম্প্রতি একটা খবর চাউর হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণে নাকি মানুষের মাথা লাগবে। কিছু মানুষ এমন গুজব সত্যি ভেবে অবলীলায় বিশ্বাসও করতে শুরু করেছিলেন।

কিন্তু দায়িত্বশীলদের দ্রুত তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত এটি হালে পানি পায়নি। কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময়ও একদিন গুজব রটেছিল রাজধানীতে আন্দোলনরত কিছু ছাত্রকে মেরে হয়েছে বলে। তথ্যাদি যাচাই-বাছাই না করে কেউ কেউ এ গুজবকে সত্যি ভেবে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমের লাইভ সম্প্রচারে জ্বালাময়ী বক্তৃতাও দিয়েছিলেন।

এতে পুরো দেশ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছিল। কিন্তু সে সময়ও বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে এ গুজব মোকাবিলা করেছিল সরকার। সরকার ও দেশকে বেকায়দায় ফেলতে বিভিন্ন চক্র ষড়যন্ত্র করে ভবিষ্যতে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লুটতে পারেÑ এমন শঙ্কা থেকে যে কোনো গুজব মোকাবিলায় এবার ঢাল হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি তৃণমূলের নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে ‘জয় বাংলা’ নামে একটি নতুন অ্যাপস তৈরি করেছে। যে অ্যাপসের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে ১ কোটি মানুষকে। যারা যে কোনো ধরনের গুজবের বিষয়ে মুহূর্তের মধ্যে সতর্ক হয়ে যাবে।

গুজব প্রতিরোধে কাজ করবে। এ ছাড়াও যে কোনো ধরনের গুজব ঠেকাতে সভা, সেমিনার ও প্রশক্ষিণসহ নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি গুজব প্রতিরোধে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও বেশ উদ্যোগী হয়ে উঠেছে।

এ জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আমাদের সময়কে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) সমন্বয়ে গুজব প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর গুজব, হুমকি শনাক্তকরণ এবং মোকাবিলায় প্রায় ২শ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ইন্টারনেট কনটেন্ট ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব শনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে যে আইডি দিয়ে এ ধরনের কাজ করা হবে, সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আপত্তিকর আইডি ও পেজ সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তারাও দ্রুত সাড়া দিচ্ছে বলে জানান সরকারের এ মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর আমাদের সময়কে জানান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বদ্ধপরিকর। তারই অংশ হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি কাজ করে যাচ্ছে। ‘জয় বাংলা’ অ্যাপস সম্পর্কে তিনি জানান, এ অ্যাপসের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) মানুষকে বার্তা দেওয়া সম্ভব। তবে প্রতিনিয়ত অ্যাপসের সক্ষমতা বাড়াতে আপডেট করা হচ্ছে। দেশের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রযুক্তিবিদরা এর সঙ্গে নানাভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

আবদুস সবুর আরও বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় গুজব ছড়িয়ে দিয়ে সারাদেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল একটি চক্র। সম্প্রতি পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবেÑ এমন গুজবও ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয়। এসব গুজব ঠেকাতেই আমাদের এ প্রস্তুতি। এ ছাড়াও তৃণমূলের নেতৃবৃন্দকে পুনরায় প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে এ উপকমিটি।

আবদুস সবুর জানান, সারাদেশের বিভাগীয় শহরে কর্মশালার মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের প্রযুক্তিবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই তাদের এ উদ্যোগ। তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারে প্রশিক্ষিত করতে বিভাগীয় পর্যায়ে সভা-সেমিনারও করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে সেমিনার করা হয়েছে। উপকমিটি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরই)-এর সহযোগিতায় দেশের আট বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে কর্মশালার আয়োজন করা হবে।

এসব কর্মশালায় উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকরা অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। এ সপ্তাহেই এ কর্মশালা শুরু হতে পারে। জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ছাড়াও অন্য নেতারা এসব কর্মশালায় অংশ নিতে পারবেন। কর্মশালায় ই-মেইল পরিচালনা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দলীয় সব কর্মকা- যাতে প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়ে থাকে, সে বিষয়েও উৎসাহিত করা হবে। ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় করে তুলতে কর্মশালার আয়োজন করেছিল আওয়ামী লীগ। ওই বছরের ৭, ৮ ও ৯ মে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ওই কর্মশালায় অধিকাংশ সংসদ সদস্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ওই কর্মশালার দুই বছর পর এ আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments