গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা চলন্ত বাসে

193

আলোকিত সকাল ডেস্ক

শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে চলন্ত বাসে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্বশুরবাড়ি থেকে গাজীপুরে তার কর্মস্থলে ফেরার পথে চলন্ত বাসে চালক ও তার সহকারীরা ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। নানা কৌশলে ওই গৃহবধূ ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেলেও শ্লীলতাহানির হাত থেকে রক্ষা পায়নি। এদিকে দিনাজপুরে প্রথম শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই সন্তানের জনককে থানায় দিয়েছে স্থানীয়রা। বামনায় কিশোরী প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সাভারের আশুলিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে তার ননদের স্বামী। এ ঘটনায় জড়িত ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন :
শেরপুর: ঝিনাইগাতীতে চলন্ত বাসে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জুলহাস মিয়া (২০) নামে এক বাস হেলপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার জুলহাস মিয়া শেরপুর সদর উপজেলার তাতালপুর এলাকার ওসমান মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, ওই গৃহবধূ তার স্বামীসহ গাজীপুরের গড়গড়ীয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকেন এবং ওই এলাকার একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিকের কাজ করেন। গত ৮ জুলাই তিনি স্বামীকে রেখে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে নিজ এলাকায় যান। ভোটার তালিকার কাজ সেরে ৯ জুলাই রাত ১১টায় তার শ্বশুর তাকে ওই গাড়িতে উঠিয়ে দেন।

ঝিনাইগাতীর সিয়াম বাস কাউন্টার থেকে ‘মমিন পাগলের দোয়া’ নামে একটি বাসে করে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন ওই গৃহবধূ। বাস ছাড়ার পর থেকেই ওই বাসের চালক ও তার সহকারীরা গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে রাতে বাসের যাত্রীরা ঘুমিয়ে পড়লে হেলপাররা ওই গৃহবধূর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। নানা কৌশলে তিনি ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেলেও শ্লীলতাহানির হাত থেকে রক্ষা পায়নি। এমন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে গাজীপুর গড়গড়ীয়া মাস্টারবাড়িতে গৃহবধূ বাস থেকে নেমে যায়।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। বিকেলে গ্রেফতার জুলহাস মিয়াকে আদালতে নেয়া হলে আদালতের বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দিনাজপুর : দিনাজপুরের পল্লীতে প্রথম শ্রেনীর শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগে দুই সন্তানের জনককে আটক করে কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করেছে স্থানীয় জনগণ। আটককৃত ধর্ষকের নাম মমিন ইসলাম ওরফে এরশাদ।

কোতয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা বজলুর রশিদ জানান, সদর উপজেলার ৯ নং আস্করপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গৌরীপুর গ্রামের ব্রাক স্কুলের ১ম শ্রেণির ছাত্রীকে স্থানীয় একটি পুকুর পাড়ে একা পেয়ে এরশাদ ধর্ষনের চেষ্টা করে। মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে ধর্ষক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। জনতা তাকে ধরে স্থানীয় চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের কাছে নিয়ে যায়। পরে চেয়ারম্যান তাকে কোতয়ালী পুলিশে সোপর্দ করেছে। ধর্ষিত মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক ধর্ষক এরশাদের বাড়ী একই গ্রামে।

বামনা (বরগুনা) : বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রামের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে বামনা থানায় মামলা দায়ের করেছে।

জানা যায়, গত শনিবার সকালে বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রামের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি কিশোরীকে ঘরে একা পেয়ে তাকে ধর্ষনের চেষ্টাকরে অভিযুক্ত সোহাগ। লোকজন মেয়েটির চেঁচামেচি শুনে তাকে উদ্ধারকরতে গেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী কিশোরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি অস্পষ্ট ভাবে জানান, কালু (সোহাগ) তাকে চেপে ধরেছে। এর বেশি তিনি জানাতে পারেনি।

এ ঘটনায় আসামীরা হলো বামনা উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর ছেলে মো. সোহাগ(১৬), মো. আলী হোসেন হাওলাদারে ছেলে মো. নাসির চৌকিদার(৩৫), মো. মোক্তার আলী হাওলাদারের ছেলে মো. আনসার আলী হাওলাদার(৪২) এবং অযোধ্যা গ্রামের মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছেলে মো. দুলাল চৌধুরী(৪০)।

বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ৪জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত ৩জন আসামীকে গ্রেফতার করে বরগুনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সাভার : আশুলিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে ননদের স্বামী। এ ঘটনায় জড়িত ধর্ষক মোখলেসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় স্বামী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন জানিয়ে গৃহবধূকে দ্রুত টাকা নিয়ে আশুলিয়ার বাইপাইলে আসতে বলে ননদের স্বামী মোখলেস। পরে গৃহবধূ টাকা জোগাড় করে মিরপুর পাইকপাড়া থেকে বাইপাইলে আসেন। ননদের স্বামী ওই গৃহবধূকে বাইপাইলের নিশ্চিতপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যায়। নিশ্চিতপুরে নিয়ে যাওয়ার পর ওই গৃহবধূর টাকা হাতিয়ে নেয় মোখলেস। একপর্যায়ে গৃহবধূকে ওই বাসায় আটকে ধর্ষণ করে মোখলেস। পরে গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে ধর্ষক মোখলেসের পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে আশুলিয়া থেকে ধর্ষক মোখলেসকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন। গ্রেফতার মোখলেস উদ্দিন (৩৮) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কানিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং র্বুমানে গাজীপুরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বসবাস করতো।
আশুলিয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বদরুজ্জামান বলেন, গৃহবধূর ধর্ষণ মামলায় মোখলেসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষক মোখলেসের পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments