গ্যাসের দামে নাখোশ সবাই

225

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আবাসিক ও বাণিজ্যিক সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে সর্বত্র। গৃহসংযোগে চুলা প্রতি ১৭৫ টাকা বর্ধিত দাম প্রতি গ্রাহককে চলতি মাস থেকেই দিতে হবে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক সংযোগে গড়ে ৩২ দশমিক ৮ ভাগ মূল্য বেড়েছে। ব্যবসা ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ দাম বাড়ানোয় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এই খরচ যোগ হবে পন্যের দামে। এতে প্রকারান্তরে বর্ধিত দামের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপরেই আসবে। এ অবস্থায় বর্ধিত মূল্য নিয়ে নাখোশ সব পক্ষই। দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানিতেও দাম বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি উঠেছিল বিভিন্ন পক্ষ থেকে।

এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোয় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে আধাবেলা হরতাল পালন করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ভোর ছয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এ হরতাল পালিত হবে। বাম জোটের এই হরতালে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্যসহ আরও কয়েকটি দল নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। হরতালের সমর্থন বাম জোটের পক্ষ থেকে গত কয়েক দিন প্রচারণাও চালিয়েছে। এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি পুর্নবিবেচনা করার আহবান জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্য শরিকরা।

গত মার্চে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতারা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগে শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। গ্যাসের দাম বাড়ালে কারখানার বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। গণশুনানিতে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনগুলোর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিরোধিতা করে। দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসার পর শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, এতে পন্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এছাড়া এতে ব্যবসার খরচও বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তার ওপর।

এ দফায় ভোক্তা পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যহার বর্তমান ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। দাম বাড়িয়ে গৃহস্থালির ক্ষেত্রে মিটারভিত্তিক গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ১২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগে ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৯ টাকা ১০ পয়সা। এক চুলায় প্রতিমাসে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২৫ টাকা। যা আগে ছিল ৭৫০ টাকা। দুই চুলায় ৯৭৫ টাকা, যা আগে ছিল ৮০০টাকা। সিএনজির ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ টাকা। যা আগে ছিল ৩৮ টাকা। হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ক্ষেত্রে ২৩ টাকা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্প ও বাণিজ?্যক খাতেও গ?্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

গত বছরের এপ্রিল থেকে দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হয়, যার দাম পড়ছে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৩০ টাকা। এ দর দেশীয় গ্যাসের চার গুণের বেশি। এলএনজির কারণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। গণশুনানি করে বিইআরসি গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়িয়েছিল। অবশ্য ভোটের আগে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় গ্যাসের বাড়তি দাম বাড়ানো হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ বার।

হরতাল সফল করতে বাম জোটের আহ্বান: জনস্বার্থ উপেক্ষা করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা হরতাল সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন ৮টি বাম দল নিয়ে গঠিত ‘বাম গণতান্ত্রিক জোটে’র নেতারা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু বলেন, গণশুনানিতে আমাদের বক্তব্য অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অযৌক্তিভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। সিএনজির দাম বৃদ্ধি করায় পরিবহন ব্যয় বাড়বে। শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় শিল্প পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে শিল্প পণ্যসহ, কৃষি সেচে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এইভাবে ব্যয় বৃদ্ধির ফাঁদে জনগণ নিপতিত হবে। সমাবেশে অনান্যের মধ্যে বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments