চট্টগ্রামের প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধে নেই উদ্যোগ

168

আলোকিত সকাল ডেস্ক

যানজট নিরসনে ঢাকা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের প্রধান সড়কগুলোতেও রিকশা চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত বিমানযাত্রী আসা-যাওয়া করছেন। কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়, দেওয়ানহাট ও আগ্রাবাদসহ আরও কয়েকটি মোড় পার হতে হয় যাত্রীদের। এসব মোড়ে নিত্যদিনের যানজটের পেছনে অন্যতম কারণ রিকশা।

সড়কে রিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলে ঘটছে দুর্ঘটনা। ছবি: সোহেল সরওয়ারযানজটের কবলে পড়ে অনেক যাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন। জিইসি মোড় থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। স্বাভাবিক গতিতে যানবাহনের মাধ্যমে এ পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। কিন্তু যানজটের কারণে এই রাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগছে দুই থেকে চার ঘণ্টা। তাই এই সড়কে রিকশা ও অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যানজটমুক্ত নগর গড়তে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি প্রধান সড়কও রিকশামুক্ত করা প্রয়োজন বলে মত তাদের। তবে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের।

সড়কে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেই। ছবি: সোহেল সরওয়ারনগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বাংলানিউজকে বলেন, সিডিএ এভিনিউ হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রধান সড়ক। এই সড়কে কোনো অবস্থাতেই রিকশা চলাচল করতে দেওয়াটা উচিত নয়। একসময় আগ্রাবাদের শেখ মুজিব রোডে রিকশা চলাচল বন্ধ ছিলো। অজ্ঞাত কারণে ওই নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়ে আবারও রিকশা চলাচল করছে। মাঝখানে একবার রিকশা চলাচল বন্ধ করতে উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।

নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বৈধ-অবৈধ রিকশা। ছবি: সোহেল সরওয়ারতিনি বলেন, আমাদের দাবি সিডিএ এভিনিউতে অবশ্যই রিকশা চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন। রিকশা কখনো কোনো সভ্য শহরের বাহন হতে পারে না। মধ্যবিত্তরা যেহেতু এ বাহন ব্যবহার করেন তাই রিকশাগুলো অলি-গলিতে থাকুক। কিন্তু রিকশা যাতে প্রধান সড়কে না থাকে সেই উদ্যোগ নিতে হবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) হারুন-উর-রশিদ হাযারী বাংলানিউজকে বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই সিদ্ধান্ত দিলে আমরা প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধে মাঠে নামবো। যানজট নিরসনে এরকম একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারলে ফলাফলটা ভালো হবে।

নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বৈধ-অবৈধ রিকশা। ছবি: সোহেল সরওয়ারকেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য মান্নান ফেরদৌস বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকায় প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করাটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। চট্টগ্রামেও প্রধান সড়কে বিশেষ করে বিমানবন্দর সড়কটিতে রিকশা চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন। কারণ বিদেশি নাগরিকরা এই সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করছেন। যানজটের কারণে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দরকার হলে প্রধান সড়কের পাশে বাইপাস সড়ক তৈরি করে সেখানে রিকশা চলাচল করতে দেওয়া যেতে পারে।

নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বৈধ-অবৈধ রিকশা। ছবি: সোহেল সরওয়ারআওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির সদস্য আরশেদুল আলম বাচ্চু বাংলানিউজকে বলেন, বিমানবন্দর সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে বন্দরের পণ্য পরিবহন করা হয়। যানজটের কারণে ঠিক সময়ে পণ্য ডেলিভারি না হওয়ায় অর্থনীতির দিক দিয়েও ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত বিমান বন্দর সড়ক যানজট মুক্ত করতে ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও রিকশা চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন।

নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বৈধ-অবৈধ রিকশা। ছবি: সোহেল সরওয়ারচট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা আছে, আমরা প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধে মার্কিং করেছি। ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নিয়েও আমরা কাজ করছি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments