চন্দ্রগঞ্জে মেডিএইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রোগীকে ভুল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ

361

ইমরান হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার

মেডিএইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড কনসালটেশন নামক রোগ নিরুপনী কেন্দ্রে রোগীকে ভুল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে অবস্থিত মেডিএইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। অভিযোগ উঠেছে, রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠানটি রোগের সঠিক রিপোর্ট দিতে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে। রোববার বিকালে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি এক পরিবার।

জানা যায়, বেগমগঞ্জের ছয়ানী এলাকার বাসিন্দা আল আমিন (২৬) তার চল্লিশোর্ধ বয়সী মা’ নাছিমা আক্তারকে নিয়ে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাফী টেষ্ট করাতে আসেন চন্দ্রগঞ্জ বাজারের মেডিএইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড কনসালটেশন নামক প্রতিষ্ঠানে। তার মায়ের সমস্যা লিভারে সর্বি জমাট হওয়া। কিন্তু গত ৫ জুলাই তারিখে রোগীকে প্রদানকৃত রিপোর্টে দেখা যায় রোগী প্রায় ৬ মাসের গর্ভবতী (অন্তঃস্বত্তা)। রিপোর্টে ডেলিভারী তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে।

আল আমিন জানান, আমার মায়ের পেটে ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে প্রফেসর ডা. করিমুল হুদা সিরাজী নামক একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো হয়। তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধসহ আল্ট্রাসনোগ্রাফী পরীক্ষা করিয়ে তাকে রিপোর্ট দেখাতে পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী মেডিএইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড কনসালটেশনে আল্ট্রাসনোগ্রাফী করানো হয়। কিন্তু আমাকে যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে এটি সম্পূর্ণ ভুল। রিপোর্টটি দেখেই আমার চোখ কপালে ওঠে যায় যে, এটা কীভাবে সম্ভব?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আল্ট্রা রিপোর্ট প্রদানকারী হিসাবে ডা. ফজিলাতুল নেসা (এমবিবিএস, সিএমইউ-আল্ট্রা) নামক যে ডাক্তারের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি মেডিএইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড কনসালটেশনের সাথে যুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নাম ব্যবহার করে অপ্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে রিপোর্ট তৈরী করে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এনামুল হক রতনের কাছে রোগীকে ভুল রিপোর্ট প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা একজনের রিপোর্ট আরেকজনের কাছে চলে গেছে। প্রকৃতপক্ষে তার এই কথার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারণ, ওই রোগীর নাম ও প্রেসক্রিপশন প্রদানকারী ডাক্তারের নামের হুবহু মিল আছে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল মুঠোফোনে বলেন, ভুক্তভোগি পরিবার বা সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments