ছেলের জন্য ৪৪ বছর রোজা রাখা সেই মা আর নেই

553

আলোকিত সকাল ডেস্ক

জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত টানা ৪৪ বছর সন্তানের জন্য রোজা রাখলেন মা সুখিরন নেছা। সেই মা সোমবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইন্তেকাল করেছেন। কাঁদিয়ে গেলেন সবাইকে।

তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়নের বাজার গোপালপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৫ বছর। এই মা সন্তান, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জীবিত থাকতে সুখিরন নেছা, তার পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, এই মা সন্তানের জন্য ১৯৭৫ সাল থেকে ১২ মাস রোজা পালন করে আসছিলেন। তার বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম ১১ বছর বয়সে হারিয়ে যান। দীর্ঘ দিন সন্তানকে খোঁজে না পাওয়ায় চিন্তায় ব্যাকুল মা সুখিরন নেছা পাগলের মতো হয়ে যান। তিনি মনস্থির করেন; ছেলে ফিরে এলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ১২ মাস রোজা রাখবেন। গ্রামের মসজিদ ছুঁয়ে সুখিরন এই প্রতিজ্ঞা করেন। দেড় মাস পর হঠাৎ তার হারিয়ে যাওয়া সন্তান বাড়িতে ফিরে এসে ‘মা’ বলে ডাক দেয়। সুখিরন নেছা নাড়ি ছেঁড়া ধনকে ফিরে পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি এরপর থেকেই রোজা রাখা শুরু করেন।

হারিয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসা সেই বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার জন্য মা কষ্ট করে রোজা রেখেছেন। আমি রোজা রাখতে নিষেধ করলেও তিনি শুনেননি। অসুখ হলেও তিনি রোজা ছাড়তেন না। আমার মায়ের মতো মা পৃথিবীতে আর একটিও নেই। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন আমার মাকে তিনি জান্নাতবাসী করেন।

এলাবাসীরা বলেন, অনেক মা দেখেছি। কিন্তু এমন মা দেখিনি। যিনি সন্তানের কথা চিন্তা করে সারা জীবন রোজা রেখেছেন। অভাব অনটনে জীবন-যাবন করলেও কখনো রোজা রাখা বন্ধ করেননি। যত কষ্টই হোক না কেন তিনি রোজা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে।

সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের আইসি দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments