ছেলে ধরা নিয়ে আতঙ্ক, গুজব ছড়াচ্ছে ওরা কারা?

228

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে এমন গুজব জড়িয়ে পড়েছে সারাদেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জুড়ে। বিভিন্ন স্কুল ও গ্রাম থেকে ছেলে ধরে নিয়ে যাচ্ছে অপরিচিতি মানুষ এমন গুজবে ভাসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ। এ গুজব বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি গ্রাম-পাড়া ও মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর-কলাবাড়ি এলাকার কিন্ডার গার্টেন থেকে এক শিশুকে ধরে নিয়ে গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর ছেলেটির খোঁজ না পেলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছেলেটি কাউকে কিছু না বলে তার বন্ধুদের সাথে পাশের বাড়িতে যায়। ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে অনেক অভিভাবক তাঁদের শিশু সন্তানদের স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যান। এ গুজব নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁদের শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।

এদিকে উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের ছোট-হাদিনগর গ্রামের আলহাজ্ব মানিরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. রুলিয়ারা বেগম(৫০) ও তার পার্শ্ববর্তী পাড়ার জামায়াতের সক্রিয় নেতা ও মাদ্রাসা শিক্ষক মো: কবির হুজুর (৩৫) নামের এই দুজন গুজব রটানো ব্যক্তি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি করে ফেলেছে।

পাড়া মহল্লায় ও দোকানে, মাঠে-ঘাটে অবান্তর তথ্য পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা কেটে দিচ্ছে এমন সব অবাস্তব, যুক্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে। এমনকি সারাদেশে অসংখ্য ছেলে ধরা নারী/পুরুষ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের এমন গুজব রটানোর ফলে শিশু, অভিভাবকসহ এলাকার জনসাধারণের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এর পূর্বেও এমন গুজব চারিদিকে ছড়িয়েছে বলে এলাকার একটি সচেতন মহল জানান।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শিকদার মশিউর রহমান জানান, আমি পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর জন্য মাথা নেয়ার গুজবটি জেনেছি এবং শুনেছি। কিন্তু আমাদের শিবগঞ্জে এমন গুজব শোনা যায়নি।

এ ছাড়া গুজবটি জানার পর থেকে শিবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম-পুলিশ ও চেয়ারম্যানগণকে অবহিত করেছি গুজব ছড়ানো ব্যক্তিকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য এবং এবিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্যও পরামর্শ দিয়েছি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গুজবকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী রওশন ইসলাম জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি গুজব, এর কোন ভিত্তি নেই। তারপরও গুজবটি ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকগণ আতঙ্কে রয়েছেন। কিন্তু এটা আতঙ্কের কোন বিষয় নয়।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণকে সতর্ক বার্তা পাঠানো হবে। এছাড়া আগামী শুক্রবার প্রতিটি মসজিদে মসজিদে ইমামগণকে প্রচারের চিঠি দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments