জনবল নিয়োগের আগেই প্রশিক্ষণের প্রকল্প

164

আলোকিত সকাল ডেস্ক

জনবল নিয়োগ দেওয়ার আগেই প্রশিক্ষণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ৪৭ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পে বিদেশে প্রশিক্ষণে দুই কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এখনও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় কতজন কর্মকর্তা বিদেশে প্রশিক্ষণে যাবেন তা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া পণ্য উৎপাদনকারী ও বিক্রেতাদের জন্য স্থানীয় প্রশিক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ দুই খাতে ব্যয় প্রাক্কলনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

দক্ষতা বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হাতে নেওয়া প্রকল্পটি চলতি জুলাই মাসে শুরু করে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ‘দৃঢ় বুনিয়াদ স্থাপনে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির মাধ্যমে জবাবদিহি ও দক্ষতার সঙ্গে খাদ্য পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালন এবং সঠিকভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় খাদ্য ভেজালের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকারে স্থাপন করা হবে কল সেন্টারও।

জনবল নিয়োগের আগেই প্রশিক্ষণের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক সমকালকে বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব লোকবলের কোনো সম্পর্ক নেই। সংস্থার বাইরে প্রচুর লোককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাছাড়া কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা নিয়োগে গত শুক্রবার লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে। তখন তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে সবার আগে সংস্থার মাঠ পর্যায়ে জনবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। খাদ্য নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর ছয় বছরেও নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা যায়নি। নিয়োগের কার্যক্রম কবে শেষ হবে তাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হলে সঠিকভাবে তা বাস্তবায়ন করা যাবে না।

২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। বর্তমানে এ সংস্থায় পাঁচজনের জায়গায় চার সদস্য আছেন। এ ছাড়া একজন সচিব ও পাঁচজন পরিচালক প্রেষণে নিয়োজিত আছেন। অভিজ্ঞ ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম গতিশীল করা যাচ্ছে না বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে খাদ্য কর্তৃপক্ষের কোনো জনবল নেই। তবে জনবল কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়নসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ করে নিয়োগের

প্রক্রিয়া চলছে।

বতর্মানে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো থেকে ২৪২ স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের দায়িত্ব দিয়ে কিছু কাজ করানো হচ্ছে। এসব কর্মকর্তা জেলা পর্যায়ে খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শন, ঝুঁকিভিত্তিক খাদ্য নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাগারে প্রেরণ, মামলা দায়ের পরিচালনাসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একইভাবে উপজেলা পর্যায়ে আরও ৫৫০ খাদ্য পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় পরিদর্শকদের বাইরে মাঠ পর্যায়ের ২০ হাজার খাদ্য উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী, উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কর্মচারী, হোটেল ব্যবসায়ী ও ফল বিক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য নয় কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ব্যয় প্রাক্কলনকে অযৌক্তিক বলছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্পের আওতায় কর্মশালা ও সেমিনারে খরচ ধরা হয়েছে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকা। জনগণের মধ্যে ভেজালবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে র‌্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এতে খরচ ধরা হয়েছে চার কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৯ শতাংশ। পাঁচজন পরামর্শকের জন্য দুই কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, প্রকল্পটির একটি প্রাক-বিনিয়োগ বা সমীক্ষা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তবে এ থেকে বোঝার উপায় নেই বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা কোন পর্যায়ে আছে। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে তা কোন পর্যায়ে উন্নীত হবে। এ কারণে অস্পষ্ট তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রাক-বিনিয়োগ সমীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

আস/এসআইসু

Facebook Comments