জাল সাক্ষরের তান্ডব খাদ্য বিভাগে! তদবির বন্ধ করতে অফিস আদেশ

76

দেশবার্তা ঢাকাঃ খাদ্য বিভাগে লোভনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি-পদায়ন পেতে মরিয়া থাকায় এ বিভাগটিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ফলে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন বড় ধরনের অপরাধে। অনেকেই মন্ত্রী, রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সুপারিশ সংবলিত ডিও (আধাসরকারিপত্র) লেটার দিচ্ছেন অহরহ। এমনকি জাল স্বাক্ষর সংবলিত ডিও লেটারও দিচ্ছেন অনেকে।

আর এসব জাল-জালিয়াতি ঠেকাতে ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তদবির বাণিজ্য বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়। এসব বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত জুলাই মাসে একই ধরনের অফিস আদেশ জারি করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

অধিদফতরের মহাপরিচালক মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, খাদ্য অধিদফতরের আওতাধীন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির শৃঙ্খলাবহির্ভূত আচরণ বা কর্মকাণ্ড যথাযথ কর্তৃপক্ষের গোচরিভূত হয়েছে। তারা বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করে খাদ্যভবনে তদবিরের জন্য ঘুরাঘুরি এবং অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যবান সময় অপচয় ঘটানোসহ দাফতরিক কর্মপরিবেশ বিনষ্ট করছেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাফতরিক নথিপত্রের গোপনীয়তা ভঙ্গ ও তথ্য পাচার করছেন জানিয়ে অফিস আদেশে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যম ছাড়া শৃঙ্খলা পরিপন্থীভাবে সরাসরি মন্ত্রী/সচিব/মহাপরিচালক/পরিচালক বরাবরে বিভিন্ন ধরনের আবেদন ও চিঠিপত্র পাঠানোর কাজও তারা করছেন। সরকারি কর্মচারীর আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করে বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে তদবির ও চাপ প্রয়োগ করছেন।

বদলি, পদায়ন ইত্যাদি সুবিধা আদায়ের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া/জাল স্বাক্ষযুক্ত সুপারিশপত্র/ডিও পত্র অধিদফতরে পাঠাচ্ছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চাকরির নিয়ম ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত এমন কর্মকাণ্ড থেকে খাদ্য অধিদফতরের আওতাধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে আদেশে বলা হয়েছে, অন্যথায় বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত ২ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়-লক্ষ্য করা যাচ্ছে খাদ্য অধিদফতরাধীন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির সুবিধাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, মাননীয় সংসদ সদস্য/বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সুপারিশপত্র দাখিল করা হয়। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি-২০-এ উল্লেখ রয়েছে যে, ‘সরকারি কর্মচারী তার পক্ষে-বিপক্ষে কোনো অনুরোধ বা প্রস্তাব নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো বেসরকারি ব্যক্তির দ্বারস্থ হতে পারবেন না।’

বিধি ৩০-এ বলা আছে-‘সরকারি কর্মচারী তার চাকরি সংক্রান্ত— কোনো দাবির সমর্থনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার বা সরকারী কর্মচারীর উপর কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বহির্প্রভাব খাটাতে পারবেন না।’

৩০-এর সি-তে বলা হয়েছে-‘সরকার বা কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত— বা আদেশ পরিবর্তন, বদলানো, সংশোধন বা বাতিলের জন্য অনুচিত প্রভাব বা চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।’ এসব বিধান লঙ্ঘন করা হলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। এ জন্য শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিবেচিত হবেন।” ওই আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ভবিষ্যতে এর ব্যত্যয় হলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments