জাহাজের কালো তেলে বিপন্ন পরিবেশ

183

আলোকিত সকাল ডেস্ক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা সাগর উপকূলে স্ট্ক্র্যাপ জাহাজের বর্জ্য কালো তেলে উপকূল সয়লাব হয়ে গেছে। এতে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। তেলের কারণে সাগরে মাছ মরে ভেসে উঠছে। এসব মাছ স্থানীয় জেলেরা সাগর থেকে আনলেও লোকালয়ে বিক্রি করতে পারছেন না।

স্থানীয় চেয়ারম্যান মনির আহমেদ বলেন, কালো তেলের কারণে পরিবেশের ক্ষতিসহ স্থানীয় লোকজনের বসবাসে সমস্যা হচ্ছে। একই কারণে সাগরে মাছের প্রজনন কমে যাচ্ছে। উপকূলের গাছপালা মরে যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদাররা বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন বলে এ সময় মনির আহমেদ মন্তব্য করেন।

সরেজমিনে গতকাল সোমবার বিকেলে সোনাইছড়ির পাক্কা মসজিদ সাগর উপকূলে গিয়ে দেখা যায়, উপকূলের বেড়িবাঁধের কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথর ও এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ঘাস ও ফসলের ক্ষেত কালো তেলে ছেয়ে গেছে। সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা ও পাক্কা মসজিদ সাগর উপকূলে কালো তেল ভাসছে।

জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতের কোনো একসময় ভাঙার জন্য আনা কোনো জাহাজ থেকে এই কালো তেল সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাতের জোয়ারে পানিতে ভাসতে ভাসতে তেল পুরো উপকূলে ছড়িয়ে যায়। ভাটায় উপকূলের মাটি ও ঘাস কালো হয়ে যায়। উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ব্লকগুলোও কালো হয়ে যায়। তবে কোন জাহাজভাঙা কারখানা থেকে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, তা জানাতে পারেননি পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ওই এলাকায় অবস্থিত ফোর স্টার শিপইয়ার্ডের মালিক মোহাম্মদ রুবেল বলেন, আমার ইয়ার্ডের কোনো জাহাজ থেকে এই কালো তেল বের হয়নি। অন্য কোনো ইয়ার্ডে কাটার জন্য আনা স্ট্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে এই কালো তেল ছাড়া হয়েছে। তবে তা তদন্ত করে দেখলে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পারবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জেলে জানান, ওই দিন রাতে কালো তেল ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় বাজে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মানুষের টেকা দায় হয়ে পড়েছে। সাগরের পানিতে তেলের কারণে মাছ কমে যায়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কোন কারখানা থেকে কালো তেল ছাড়া হয়েছে, তা দ্রুত বের করা হবে। এ জন্য দোষী কারখানাকে অবশ্যই জরিমানা করা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments