জয়ে শুরু, হারে শেষ; দেশে ফিরছে বাংলাদেশ

445

আলোকিত সকাল ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে কী দারুণভাবেই না বিশ্বকাপের এবার আসর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। অথচ বাজে বোলিং আর ফিল্ডিংয়ের কারণে এখন শূন্যহাতেই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হলো টাইগারদের।

আজ (শুক্রবার) রাউন্ড রবিন লীগ পর্বের শেষ ম্যাচেও হতাশ করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের কাছে ৮৪ রানের বড় হেরে তাই মলিন মুখেই দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের দেয়া ৩১৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২২১ গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ফলে ৯৪ রানের বিশাল জয় পেল পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন সাকিব আল হাসান।

শুক্রবার (০৫ জুলাই) লর্ডসে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায়। সরাসরি সম্প্রচার করে বিটিভি, গাজী টিভি ও মাছারাঙা চ্যানেল।

টসে জিতে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরুর আভাস দিচ্ছিল পাকিস্তান। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিল না টাইগাররা। দলীয় ২৩ রানে হারায় ১ম উইকেট পাকিস্তান। ইনিংসের ৮ম ওভারে টাইগার অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ধার পড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ওপেনার ফখর জামান। আউট হবার ৩১ বলে ১৩ রান করেন তিনি।

এরপর মাঠে আসেন বাবর আজম। ওপেনার ইমাম-উল-হকের সাথে মিলে গড়েন ১৫৭ রানের জুটি। দলীয় ১৮০ রানে সেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে পড়েন বাবর। আউট হওয়ার আগে ৯৮ বলে ৯৬ রান করেন তিনি।

দলীয় ২৪৬ রানে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের বলে হিট উইকেট আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন ইমাম-উল-হক। আউট হবার আগে তিনি করেন ১০০ বলে ১০০ রান। ইমামের পরপরই মেহেদী মিরাজ সাজঘরে ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজকে (২৭)।

মোস্তাফিজ দ্বিতীয় শিকার বানান হারিস সোহেলকে (৬)। সোহেলকে আউট করেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্রুততম চতুর্থ বোলার হিসেবে ১শ’ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন কাটার মাস্টার। মোস্তাফিজের এই রেকর্ড গড়তে লেগেছে ৫৪ ম্যাচ। ৪৪ ম্যাচে দ্রুততম ১শ’ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি অক্ষত রেখেছেন রশিদ খান।

এর মধ্যে আবার সাউফউদ্দীনের ইয়র্কারে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানি অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ (২)। ওয়াহাব রিয়াজকেও (২) ফেরান এই পেসারই, দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে বোল্ড করে। তবে ইমাদ ওয়াসিম একটা প্রান্ত ধরে মেরে খেলছিলেন।

৪৮তম ওভারের প্রথম বলেই অসাধারণ ক্যাচ ধরেন মোস্তাফিজ। টাইগার পেসারকে সোজা ব্যাটে খেলতে গিয়েছিলেন শাদাব খান। এক হাতে দুর্দান্ত এক ফিরতি ক্যাচ নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন মোস্তাফিজ।

তবে পাকিস্তানের কাজের কাজটা করে দিয়েছেন ইমাদ ওয়াসিম। ২৬ বলে ৬ চার আর ১ ছক্কায় ৪৩ রানের এক ঝড় তুলে ইনিংসের শেষ ওভারে মোস্তাফিজের শিকার হন তিনি।

এই মোস্তাফিজই ইনিংস শেষে টাইগারদের সেরা বোলার। ৭৫ রান খরচ করলেও তার নামের পাশে ৫টি উইকেট। ৩টি উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন। একটি উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

৩১৬ রানের বিশাল লক্ষ্য। কিন্তু শুরুটা মোটেও আশা জাগানিয়া হলো না বাংলাদেশের। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর চলতি বিশ্বকাপে টাইগারদের বাকি সব ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও হাল ধরেছেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হলেন মুশফিকুর রহিমও।

১৯ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন মুশফিক। ৪০ বলে ৩২ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে হারিস সোহেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন লিটন দাসও।

টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটসম্যান ব্যর্থ হয়ে ফিরলেও বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু ব্যক্তিগত ৬৪ রানে শাহিন আফ্রিদির বলে সরফরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন সাকিব। আউট হবার আগে ৬২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে চলতি বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম ফিফটি তুলে নেন সাকিব। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৭তম ফিফটি।

দলীয় ১৯৭ রানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ১৬ রানে সাদাব খানের বলে বাবর আজমের হাতে ধরা পড়েন সৈকত।

ইনিংসের ৪১তম ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে আউট করেন পাকিস্তানি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। সেই সাথে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ১৯ বছর বয়সী পেসার।

১৫ রান করে শাদাবের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফিরেন মাশরাফি। এরপর ১ রান করে শাহীনের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন মোস্তাফিজ।

পাকিস্তানের পেসার শাহীন আফ্রিদি একাই যেন ধসিয়ে দিয়েছেন টাইগারদের ইনিংস। লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তোলা এই বোলার মাত্র ৩৫ রান খরচায় নেন ৬ উইকেট। অন্যদিকে, ২টি উইকেট পেয়েছেন শাদাব খান এবং আমির ও ওয়াহাব রিয়াজ ১টি করে উইকেট নেন।

Facebook Comments