ঝুঁকিপূর্ণ দুই রেলপথ

157

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি ব্যস্ত রেলপথ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এগুলো হলো, সিলেট-আখাউড়া ও পার্বতীপুর-চিলাহাটি রেলপথ। জানা গেছে, সিলেট-আখাউড়া রুটে রেললাইন ও কালভার্ট ব্রিজসমূহ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয় না। এ সেকশনের মনু রেল সেতুতে নাট-বল্টু, ফিসপ্লেট খুলে পড়ছে। ক্লিপ-হুক চুরির ফলে দুর্বল হয়ে পড়ছে লাইন। অন্যদিকে পার্বতীপুর জংশন থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত রেললাইনের অনেক স্থানেই নাট-বল্টু নেই। এরকম অবস্থার মধ্যেই এ দুই রুটে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে ৩২টি ট্রেন। ফলে যে কোনো সময় বড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ট্রেন যাত্রীরা।

সিলেট-আখাউড়া রেললাইন সরেজমিনে পরিদর্শন করে আমাদের কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা নূরুল মোহাইমীন মিল্টন জানান, এই রেল সেকশনের ২০৬ নম্বর মনু রেল সেতুর ওপরে পুরাতন কাঠের স্লিপারসমূহের সঙ্গে আটকানো ফিসপ্লেট, নাট-বল্টু ও ক্লিপ খুলে পড়ছে। যে কেউ চাইলে লোহার এসব মূল্যবান যন্ত্রাংশ নিয়ে যেতে পারে। কয়েক যুগ আগের কাঠের স্লিপারগুলো জীর্ণ হয়ে পড়েছে। কাঠের ফালি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। ৬০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচলের সময় সেতুটি দুলতে থাকে। বিভিন্ন স্থানে ক্লিপ, নাট-বল্টু নেই। একই অবস্থা ভানুগাছ, শমশেরনগর, টিলাগাঁও স্টেশনের মাঝখানে সেতু ও কালভার্টসমূহে। ভানুগাছ থেকে গোপালনগর প্রায় ৫০০ মিটার রেলপথে ৪১৬টি ক্লিপ নেই। দু’লাইনের জোড়া দেওয়া স্থানেও ক্লিপ চুরি হয়ে গেছে। রেলপথে এসব যন্ত্রাংশ দ্রুত লাগানোর নিয়ম থাকলেও বছরের পর বছর তা লাগানো হচ্ছে না। ফলে এ সেকশন দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর ও লোকাল মিলিয়ে ২০টি ট্রেন ঝুঁকি নিয়ে আপডাউন করছে।

রেলপথের টিলাগাঁও এলাকায় কর্মরত একজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক স্থানে নাট-বল্টু পুরানো হয়ে খুলে গেছে। নতুন নাট-বল্টু, ক্লিপ দেওয়া হয় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়ার রেলওয়ের গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ভানুগাছ স্টেশনের আউটারে একটি বেইলি ব্রিজ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ব্রিজ কালভার্টসমূহে নিরাপত্তার স্বার্থে মাঝে মধ্যে বাঁশের টুকরো ব্যবহার করা হয়। তবে সবগুলো সেতুতে কাজ হবে। তা কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা মো. আমিরুজ্জামান জানান, দিনাজপুরের পার্বতীপুর জংশন থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি পর্যন্ত রেললাইনের অনেক স্থানে নাট-বল্টু নেই। ফলে এ পথে ১২টি ট্রেন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যে কোনো সময় বড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ট্রেন যাত্রীরা। বিশেষ করে সৈয়দপুর শহরের অদূরে গোলাহাট এলাকায় রেললাইন আটকানোর জন্য নাট-বল্টু নেই। বিষয়টি এখনো কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি বলে এলাকাবাসী জানান।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার শওকত আলী জানান, কিছুদিন আগেই এসব রেললাইন মেরামত করা হয়েছে। রেললাইনে নাট-বল্টু নেই কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চোরেরা চুরি করে নিয়ে গেছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন রাতে ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলস্টেশন ছেড়ে এসে মনছড়া রেল সেতু অতিক্রম করার সময় স্লিপারে লুজ কানেকশন থাকার কারণে চাকা সরে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে নিহত হন ট্রেনের ৪ যাত্রী।

আস/এসআইসু

Facebook Comments