ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান!

167

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। যে কোনো মুহূর্তে জরাজীর্ণ এসব ভবনে ছাদ ধসে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই ৩৯টি বিদ্যালয়ে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কোটালীপাড়া উপজেলায় ১৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ।

উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ বুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমলিনী বাড়ৈ বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ৩১২জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রাক প্রাথমিক, দ্বিতীয়, পঞ্চম শ্রেণি ও অফিস কক্ষটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে রয়েছে। দুবছর ধরে আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে চিঠি দিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো ফল হচ্ছে না। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমরা এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছি।

ফের ধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম জাকির হোসেন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে দুটি টিনসেট ভবনই ৯০ সালের দিকে নির্মিত হয়। ভবন দুটির চালের টিনগুলো ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীরা ভিজে যায়। এখানে নতুন ভবন প্রয়োজন।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যা রতন বিশ্বাস বলেন, গত এপ্রিল মাসে ৩৯টি বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তালিকা পাঠানোর পরে ভূয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিত্রাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লেবুবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশাকরি শিগগিরই বাকি ভবনগুলো নির্মাণ প্রক্রিয়ায় চলে আসবে।

লোহাগড়ায় গাছতলায় পাঠদান

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার চোরখালী গ্রামে অবস্থিত ধোপাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণার পর গত এপ্রিল মাসের শুরু থেকে গাছতলায় চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকার শিক্ষানুরাগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ১৯৩২ সালে ২৬ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৬ সালে সরকারি বরাদ্দে বিদ্যালয়ে চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা একটি ভবন তৈরি হয়। এই ভবনেই দীর্ঘদিন ধরে চলেছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের অফিসের কার্যক্রম। এই এলাকার চোরখালী ও গোফাডাঙ্গা গ্রামের ১৪১ জন ছেলেমেয়ে এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক নার্গিস পারভীন ও তন্দ্রা দেবী রায় জানান, বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা দৌড়ে ঐ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় গাদাগাদি করে আশ্রয় নেয়। কালো মেঘ দেখলেই ঝড়ের ভয়ে ছুটি দেওয়া হয়। সকাল থেকে বর্ষা শুরু হলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে না। এ অবস্থায় খোলা জায়গায় এই পরিবেশে শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা যায় না। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম। এছাড়া খোলা জায়গায় বসে টিফিন খেতে হয়। পরীক্ষার সময় হঠাত্ ঝড়-বৃষ্টি হলে পরীক্ষাও নিতে সমস্যা হয়। বাইরে গরম, এতে মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে উপস্থিতি কমেছে। মনোযোগও নষ্ট হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার প্রতি কোমলমতি শিশুদের নেতিবাচক ধারণাও জন্ম নিচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা, নূসরাত, লায়লা, জান্নাতি, তানজিলা ও রহিমা এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসি নন্দী, খুশি নন্দী, আমেনা, প্রিয়ম আচার্য, অর্ঘ দত্ত ও নয়ন কীর্ত্তনীয়া জানায়, ‘সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি, কখন ডাল ভেঙে মাথায় পড়ে আর ঝড় ও বজ্রপাত হয় তা নিয়ে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছরীন আক্তার বলেন, ‘বিভিন্নভাবে চেষ্টা-তদবির করছি ভবনের জন্য। কিন্তু আশার নাগাল এখানো পাইনি।’

লোহাগড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আকবর হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments