টার্মিনাল, স্টেশনে মানুষের স্রোত

2

দেশবার্তা নিউজ:টার্মিনালে তখনো বাস এসে পৌঁছায়নি। এরমধ্যেই টিকিট বিক্রি শেষ। টিকিট হাতে নিয়ে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীরা। রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে এই দৃশ্য। লকডাউনের ঘোষণা আসার পর বাস টার্মিনালগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই সপরিবারে কাউন্টারে ভিড় করেছেন টিকিটের জন্য। তাদের একজন আহসান উল্লাহ। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভিড় করেছেন টিটিপাড়ার বাস কাউন্টারে।

আহসান উল্লাহ জানান, সোমবার থেকে লকডাউন। তাই পরিবারের সবাইকে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আগামীকাল (আজ) অফিস শেষে তিনিও যাবেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ করেই গতকাল দুপুর থেকে কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকে অগ্রিম টিকিট নিতে এসেছিলেন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে অগ্রিম টিকিট দেয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তারা। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে কথা হয় ইকবাল আহমেদের সঙ্গে। ইকবাল জানান, যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। বাস আসার আগেই সব আসন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তাই অগ্রিম টিকিট যারা চাচ্ছেন তাদের দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

কমলাপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে আসা-যাওয়া করে সোহাগ পরিবহনের একটি বাস। ওই বাসের যাত্রীরা জানান, অন্য সময় বাসের অনেক সিট ফাঁকা থাকতো। যাত্রীর জন্য সময়ক্ষেপণ করে বাস ছাড়তো। এখন বাস পাওয়াই দুষ্কর হয়ে গেছে। বাসের সিটের চেয়ে যাত্রী বেশি। বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধিরও তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। সিট ফাঁকা না রেখেই যাত্রী উঠানো হচ্ছে। এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গাবতলীর প্রায় প্রতিটি কাউন্টারে টিকিটের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা। অনেকে টিকিট নিয়ে কাউন্টারের সামনে পায়চারি করছেন, কেউ বসে আছেন। যাত্রীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কাউন্টারের লোকজন। হানিফ পরিবহনের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, লকডাউনের ঘোষণার পর থেকেই যাত্রীদের ভিড় শুরু হয়েছে। তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

সদরঘাটে বেড়েছে লঞ্চগামী যাত্রীদের ভিড়। চাঁদপুরগামী এডভেঞ্চার-৯ এর সেলিম আহমেদ জানান, আজ হঠাৎ করেই যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। ১৩৪টি কেবিন রয়েছে ওই লঞ্চে। লকডাউন ঘোষণার পরপর দ্রুত কেবিনগুলো বুকিং হয়েছে বলে জানান তিনি। লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের চাপ থাকায় যাত্রী কম নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে অনেক লঞ্চেই তা মানা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীরা অনেকটা জোর করেই লঞ্চের টিকিট নিতে চাচ্ছেন। যাত্রীদের মধ্যে আমেনা বেগম জানান, লকডাউন এক সপ্তাহের হলেও পরে আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন। যে কারণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন তিনি। একইভাবে গাড়ি, ক্ষুদে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছুটছেন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

Facebook Comments Box