ডেঙ্গুর পাল্টানো ধরনে চিন্তিত চিকিৎসকরা

191

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নগরজীবনের আতঙ্ক হয়ে এ বছর আবির্ভাব হয়েছে ডেঙ্গুর। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু জ্বর। প্রতিদিন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বাড়ছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, অন্যবারের সঙ্গে এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের লক্ষণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মিলছে না। ডেঙ্গুর এই পাল্টে যাওয়া ধরণ চিকিৎসকদের কপালের চিন্তার ভাঁজ চওড়া করছে।

ঢাকায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগ। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতো দিন নগরবাসীর মনে ধারণা ছিলো, প্রতিরোধক নানা ব্যবস্থা নেওয়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমে আসবে। তবে সে আশায় পানি ঢেলে দিয়েছে আরেক খবর৷ দুই সিটি কর্পোরেশন মশা মারার যে ওষুধ ঢাক ঢোল পিটিয়ে ছিটাচ্ছে তাতে মরছে না মশা৷ এডিস মশার বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে৷ ওষুধ নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে৷ তবে মশা মারার ওষুধ কবে আসবে তা কেউ জানাতে পারছেন না৷ তাই এখন এডিস মশার কামড় খেয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেন না নগরবাসী।

বৃহস্পতিবার পাওয়া সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপতালে

জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত রোগী ভর্তি হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৪৬ জন৷ মারা গেছে ১২ জন৷ বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছেন ২০১ জন।
ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছেন ৮ জনের উপরে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্র বলছেন, এতদিন শুধুমাত্র রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলেও এখন ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলা, খুলনা ও চট্টগ্রাম জেলাতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকে ২৬ জন, চট্টগ্রাম থেকে ৭ জন এবং খুলনা থেকে ১৫ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া বলেন, ডেঙ্গুতে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়েছে। এটা খুবই বিরল। কিন্তু এখন আমরা প্রায়ই এই ধরনের ডেঙ্গু রোগী পাচ্ছি। তিনি একে বলছেন ডেঙ্গুর ‘ব্যতিক্রমী’ চেহারা। এই অধ্যাপক বলেন, এখন ডেঙ্গু মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, যকৃত ও কিডনির মতো নানা অঙ্গ আক্রান্ত করছে। খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে দেখছি। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পরও অনেকে অসুস্থ পড়ছে। আগের চেয়ে মারাত্মক চেহারা নিয়ে ডেঙ্গু রোগী আসার কথা জানিয়েছেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এল ই ফাতমীও।

মধ্য জুনে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর প্রথম হলি ফ্যামিলিতে এই রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করেছিলেন অধ্যাপক ফাতমী। তিনি বলেন, এবার শুধু সংখ্যায়ই বেশি না। এবার প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমারজিক ফিভারে আক্রান্ত। এদের পঞ্চাশ ভাগেরই শক সিন্ড্রোম। এবার ডেঙ্গুর প্যাটার্নটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদের সবার প্ল্যাটিলেট কমে যাচ্ছে, সবাই শকে চলে যাচ্ছে। আগে সামান্য ডেঙ্গু হয়েই ভালো হয়ে যেত। এবার সবারই রক্ত লাগছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বর হলে গাফিলতি না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। জ্বর সেরে যাওয়ার পরও কিছু দিন চিকিৎসকের ফলো আপে থাকুন।

এ বিষয়ে দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, এ বছর ডেঙ্গুর ধরন পাল্টে গেছে। আগে যেমন তীব্র জ্বরের সঙ্গে গায়ে রেশ ওঠা, ঠোট ফেটে রক্ত বের হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যেত, এবার সে সব লক্ষণ ছাড়াও অনেক রোগীই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে জ্বর হলে ঘরে বসে চিকিৎসা না নিয়ে যত দ্রত সম্ভব দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিংবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।

আস/এসআইসু

Facebook Comments