তসলিমার তিনমাস!

56

 

বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কলকাতাতে থাকাকালীন সময়েও বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। একটি বইকে কেন্দ্র করে রোষের মুখে পড়ে কলকাতাও ছাড়তে হয় তাকে। তাই আপাতত দিল্লিই তার আস্তানা।

সম্প্রতি দিল্লিতেই পাঁচবছরের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানান তসলিমা। কিন্তু ভারত সরকার এই মেয়াদ বাড়িয়েছে মাত্র তিন মাস।

এর আগেও ভিসা নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছরে একাধিকবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে তসলিমাকে। তবে এবার মাত্র তিন মাসের মেয়াদ বাড়ায় হতবাক লেখিকা!

ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা সত্বেও কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে গত মঙ্গলবার একটি টুইটও করেন তসলিমা।

টুইটে তিনি লেখেন, আগামী ২৭ জুলাই আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার আগে ২৬ জুলাই আমাকে ইউকে যেতে হবে।

এদিকে বুধবার তসলিমা প্রথম জানেন যে, তার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। তবে সেটা মাত্র তিন মাসের জন্য। তসলিমা জানান, প্রত্যেকবারই তিনি পাঁচ বছরের ভিসার মেয়াদের জন্য আবেদন জানান কিন্তু মাত্র এক বছরের জন্য ভিসা মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। এবারো তিনি পাঁচ বছরের জন্যই আবেদন করেছিলেন। কিন্তু মাত্র তিন মাসের জন্য সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

এই বিষয়ে আবারো তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে মেনশন করে তসলিমা লিখেছেন, যাতে তার আর্জি পুনর্বিবেচনা করা হয় আর অন্তত এক বছরের জন্য বাড়ানো হয় ভিসার মেয়াদ।

এর কয়েক ঘণ্টা বাদে ফের একটি টুইট করেন তসলিমা। সেখানে তিনি মনে করিয়ে দেন যে ভিসার মেয়াদ ৫০ বছরের জন্য বাড়িয়ে দেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাই অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ফের সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন।

অবশ্য তসলিমাকে এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে আগেও। একসময় তার ভিসার মেয়াদ মাত্র দু’মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। এতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।

বর্তমানে সুইডেনের নাগরিক তসলিমা নাসরিন। তবে ২০০৪ সাল থেকে তসলিমা ভারতীয় ভিসা পেয়ে আসছেন।

উল্লেখ্য, লেখা নিয়ে বিতর্কের জেরে হুমকির প্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল তসলিমা নাসরিনকে। গত ২০ বছরে তসলিমা আমেরিকা এবং ইউরোপেও থেকেছেন বিভিন্ন সময়। কিন্তু ভারতের কলকাতায় থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ২০০৭ সালে একটি ঘটনার জেরে কলকাতাও ছাড়তে হয়েছিল তাকে।

Facebook Comments