তালাকের নোটিশে ৩ মণ দুধে গোসল, ২শ জনকে ভূরিভোজ, কেন এত ফূর্তি?

325

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বিয়েশাদি ধর্মীয় এবং সামজিক রীতি। লক্ষ্য একটি সুখের সংসার গড়া। ডিভোর্স দেওয়ার জন্য কেউ বিয়ে করে না। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে যখন পরস্পরের মিলমিশ না হয় তখন বাধ্য হয়েই একজন আরেকজনকে ডিভোর্স দেন। কিন্তু স্ত্রীর কাছ থেকে ডিভোর্স পেয়ে ৩ মণ দুধ দিয়ে গোসল এবং দুই শতাধিক প্রতিবেশীকে ভুরিভোজ করিয়ে আনন্দ করার ঘটনা শুনেছেন কখনো? অবাক হওয়ার মতো ঘটনা হলেও এটি কোনো গল্প নয়, সত্যি ঘটনা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুধ দিয়ে গোসল করার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনার দুইদিন পার হয়ে গেলেও এ নিয়ে আলোচনা থামেনি এখনো। কিন্তু কী কারণে এত ফূর্তি করলেন স্বামী? সেই প্রশ্ন জাগা খুবই স্বাভাবিক।

গত সোমবার (১৫ জুলাই) টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। স্বামীর নাম আলম (১৮)। স্ত্রীর নাম রিনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত নয়ন মিয়ার ছেলে আলমের সঙ্গে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রিনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে তিন মাস আগে আলমের সঙ্গে রিনার বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিয়ের এক মাস পার হতে না হতেই নেশা করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বামী আলমকে তালাক দেন স্ত্রী রিনা। যৌতুক থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি আলমের পরিবার। যার ফলে বিয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিমন্ত্রণ থেকে বঞ্চিত হন গ্রামবাসী। বিয়ের পর উভয় পরিবারে দেখা দেয় অশান্তি। অশান্তি নিরসনে বেশ কয়েকবার সালিশ ডাকা হয়। তবে কোনো সুরাহা হয়নি। এ নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত রোববার তালাকনামা পাঠায় স্ত্রী রিনা। এতে স্বামী আলমসহ তার পরিবারের লোকজন খুশি হয়। পরে বাজার থেকে তিন মণ মহিষের দুধ কিনে আনে আলম। সেই দুধ দিয়ে আলমকে গোসল করানো হয়। সেই সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের আনন্দে সোমবার দুপুরে গ্রামের দুই শতাধিক মানুষকে আলমের বাড়িতে ভূরিভোজ করানো হয়।

এ বিষয়ে আলম বলেন, এর আগে গোপনে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল রিনার। ওই বিয়ের বিষয়টি তার পরিবার গোপন রেখেছিল। তালাকের মাধ্যমে গ্রামে শান্তি ফিরে আসার আনন্দে দুধ দিয়ে গোসল করেছি আমি। সেই সঙ্গে গ্রামের দুই শতাধিক মানুষকে আমাদের বাড়িতে ভূরিভোজ করানো হয়েছে।

তবে রিনার দাদা মুক্তার হোসেন বলেন, আলম একজন মাদকাসক্ত যুবক। প্রায়ই রিনাকে নির্যাতন করতো। এজন্য বৈধ নিয়মে আলমকে তালাক দিয়েছে রিনা।

রিনার বাবা আনোয়ার জানান, তার জামাতা কোনো কাজ করেন না। সংসারে আয় রোজগার করেন না, বরং সারাদিন নেশা নিয়ে পড়ে থাকায় তার মেয়ে সংসার করবে না জানিয়ে আলমকে তালাক দিয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments