তিন নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা বাবুগঞ্জবাসী

131

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নদী তীরবর্তী পরিবারের মানুষগুলো। সন্ধা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এরইমধ্যেই বিলীন হয়েছে উপজেলার শত শত ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নিঃস্ব হয়েছে পথে বসেছে শত শত পরিবার।

প্রতিনিয়তই রাত কাটাচ্ছেন ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো। গত ৬ মাসে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে সৈয়দ মোশারফ-রশিদা একাডেমি, আবুল কালাম কলেজ সংযোগ সড়কসহ বেশ কিছু স্থাপনা বসতবাড়িসহ আবাদি জমি দোকান ঘরসহ অন্তত কয়েক একর জমি ফলদ বৃক্ষসহ নদীতে বিলীন হয়েছে।

এছাড়াও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (দোয়ারিকা) সেতু, মহিষাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, আবুল কালাম ডিগ্রী কলেজ, জামেনা খাতুন মাধ্যামিক বিদ্যালয়, পূর্ব ক্ষুদ্রকাঠি গ্রাম, চরসাধুকাঠি মাদ্রাসা, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি জাদুঘর, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার, মীররগঞ্জ ফেরিঘাট ও বাজারসহ বেশকিছু সরকারি বেসরকারি সামাজিক স্থাপনা।

পূর্ণিমার জোয়ারে পানি কমতে শুরু করলেও নদীতে রয়েছে প্রবল শ্রোত। যার কারণে ভাঙন ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে আতঙ্কিত এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলার শত শত পরিবার। অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে চলতি মৌসুমের প্রথম দিকে এ এলাকার বেশ কয়েকটি বসতঘরসহ আবাদি জমি গ্রাস করেছিল সুগন্ধা।

এরইমধ্যেই এ সব ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামিম-এমপি, বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভাঙন প্রতিরোধে এরই মধ্যে জিওব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু ভাঙনের অবস্থা এখন এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, প্রতিরোধ কার সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে অচিরেই ভাঙন কবলিত এলকায় প্রতিরোধে কাজ শুরু না করলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা।

এ ব্যাপারের স্থানীয় সাংসদ আলহাজ গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, বাবুগঞ্জ-মুলাদী অঞ্চলের নদী ভাঙন প্রতিরোধে এরইমধ্যেই বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অচিরেই ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, বাবুগঞ্জের ৫টি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম নিজেই দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। অবশ্য এরই মধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে ওইসব স্থানে আপাতত জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments