তৃণমূলে গুরুত্ব পাচ্ছে নারী নেতৃত্ব

269

আলোকিত সকাল ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নিজেদের ঘর গোছানোর জন্য মাঠে নেমেছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।

রাজনৈতিক দলগুলোর টার্গেট কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করা।

সেজন্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছে দলগুলোর হাই-কমান্ড। আর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেয়েই মাঠে নেমেছে তৃণমূল নেতারা।

এদিকে নিজ ঘর গোছানোর মিশনেও প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে প্রতিবারের চেয়ে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে নারী নেতৃত্ব। প্রতিটি কমিটিতে নারী নেত্রীদের রাখা হবে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে। এমনটাই নিশ্চিত করেছে তৃণমূল নেতারা।

সূত্র মতে, ২০১৬ সালের ২২-২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২৪ তারিখেই শেষ হবে চলতি কমিটির মেয়াদ।

কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে যথাসময়েই সম্মেলনের পক্ষে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ জন্য প্রস্তুতি নিতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের অংশ হিসেবে এখন জেলা-উপজেলা সম্মেলন শুরু করেছে তৃণমূলের নেতারা।

রাজনীতির মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ।

সে অনুযায়ী দলটির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ। দলটিতে এখন সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। আসছে নভেম্বরেই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

চলতি বছরের নভেম্বরে হবে ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, ডিসেম্বরের দিকে জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, অক্টোবরে হবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জেএসডিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দলের সম্মেলন।

তাই শান্ত রাজনৈতিক মাঠে এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের তৃণমূলের নেতারা।

বিশেষ করে আগামীদিনের জাতীয় রাজনীতি এবং প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে ক্ষমতাসীনসহ সব দলের নজর এখন তৃণমূলের নেতৃত্বে।

তবে প্রতিবারের চেয়ে তৃণমূলের প্রতিটি ইউনিটিতেই গুরুত্ব পাচ্ছে নারী নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দীর্ঘ দশ বছর ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোট সরকার।

সরকার গঠন করার পর থেকে নারী ক্ষমতায়ন এবং নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিলো দলটির প্রধান লক্ষ্য। এজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে দলটি।

তাই আগের তুলনায় দলটিতে নারী নেতৃত্ব অনেক বৃদ্ধি পায়েছে। মাঠে রাজনীতি কিংবা আন্দোলন সংগ্রামে আগের চেয়ে দলটিতে নারী নেতৃত্ব চোখে পড়ার মতো।

আবার সূত্রগুলো মনে করছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী।

দেশের উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি তাদের অংশগ্রহণও প্রায় সমান। ভোটানুষ্ঠান এবং রাজনীতির মাঠে নেতৃত্বে দিন দিন প্রতিটি দলেই নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।

তাছাড়া তুলনামূলকভাবে নারী নেত্রীদের ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন রাজনৈতিক নেতারা।

রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ ও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের করতে হলে তৃণমূলপর্যায় থেকে নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন বর্তমান সরকার।

এমন নেতৃত্বকে বিবেচনায় রেখেই শুধু আওয়ামী লীগে নয়, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টিসহ ছোট-বড় সব রাজনৈতিকদলগুলোর হাই-কমান্ড নারী নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তথ্যমতে, বর্তমান সংসদে নারী স্পিকার। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। এবার সরাসরি নির্বাচিত নারী সাংসদ রয়েছেন ২২ জন।

সর্বশেষ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও একাধিক নারী সংরক্ষিত আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনেও কাউন্সিলরের এক-তৃতীয়াংশ পদ নারীর জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

পাশাপাশি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা করেও নারীরা মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তারা ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে জনগণের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

২০২০ সাল নাগাদ সব রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

নারী নেত্রীত্বের এসব দিক বিবেচনায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে নারী নেতৃত্বে।

জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী আমার সংবাদকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আশার পর থেকেই নারীদের এগিয়ে নিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং বাস্তবায়ন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় নারীরাও আজ দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। আজ নারীদের আলাদা গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে সাথে অনেক নারী নেত্রী রাজনীতি করে। তারা বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে যুক্ত হয়ে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন।

সেইসব নারী নেত্রীকে এবার আমরা গুরুত্ব দিয়েই দেখছি। শুধু গুরুত্ব নয়, আশাকরি ত্যাগী ও পরিশ্রমী নারী নেত্রী দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবে।

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, নারী নেতৃত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। এটা সাধারণত আমরা মুখে বলি। কিন্তু নারীদের এগিয়ে নিতে এখনো আমরা তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারিনি।

কিন্তু দিনের পর দিন রাজনীতিতে নারীদের গুরুত্ব বেড়েই চলছে। তাই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নারী নেতৃত্বকে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী সম্মেলনে নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির জন্য আমরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলাদেশের মোট সংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। সেই সকল দিক বিবেচনায় রেখেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ত করে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা হবে।

এই বিষয়গুলো আওয়ামী লীগ বিশেষ বিবেচনায় রেখেছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নারী নেতৃত্ব আনা হবে। এবং দায়িত্বশীল পদগুলোতে রাখা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments