তৃণমূল সাজাতে বিশেষ কৌশলী আওয়ামী লীগ

317

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আগামী অক্টোবরেই হচ্ছে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। এবার ক্ষমতাসীন এই দলটির জাতীয় সম্মেলন হতে যাচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে। কারণ আগামী বছর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। পরের বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। আছে উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের বিষয়। তাই আওয়ামী লীগ সাজছে তারুণ্যের সাজে। রাজনীতিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করে ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম নেতৃত্বের হাতেই তুলে দেওয়াই দলটির লক্ষ্য। তাই তৃণমূল সাজাতেও বিশেষ কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে দলীয় হাইকমান্ড। এদিকে ২১তম এই সম্মেলনে অন্য সব পদে বেশ হেরফের হলেও চমক থাকবে সাধারণ সম্পাদক পদে। আগামীতে বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের পরিকল্পনা সুসম্পন্ন করাতে প্রয়োজন ডায়নামিক ও নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন সাধারণ সম্পাদক। তাই এই পদ নিয়েই যত জল্পনা-কল্পনা।

সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশের তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো সম্মেলন শেষ করতে বিশেষ কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে দলীয় হাইকমান্ড। দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরোনোদের নবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং দলের নিজস্ব কার্যালয়ের ঠিকানা স্থায়ী কিনাÑ এসব তথ্য তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানাতে বলা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি গঠন নাও হতে পারে।

অন্যদিকে জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে তিনটি বিষয় জানতে চেয়ে তৃণমূলে চিঠি পাঠানো শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জেলা ও উপজেলা কমিটি বরাবর পাঠানো চিঠিতে তিনটি বিষয়ে দ্রুত তথ্য চেয়ে ফিরতি চিঠি পাঠাতে বলা হয়েছে।

তিনটি বিষয় হলোÑ এক. সদস্য সংগ্রহের সর্বশেষ প্রতিবেদন পাঠাতে হবে; দুই. দলীয় কার্যালয় থাকলে তার ঠিকানা ও হালনাগাদ কার্যক্রমের প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। কার্যালয়ে কম্পিউটার, ইন্টারনেট আছে কিনা তার তথ্য জানাতে হবে।

জেলা-উপজেলায় দলীয় কার্যালয় না থাকলে জমি আছে কিনা, বা জমি কেনার কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কিনা সে তথ্য জানাতে হবে এবং তিন. বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ কিনা, হয়ে থাকলে কবে নাগাদ সম্মেলন হবে তার বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির পরিবর্তে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে’ মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলাগুলোতে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেওয়ায় তৃণমূলে চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কারণ এর মধ্যে তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে আটটি বিভাগীয় টিম গঠন করে দেন। তৃণমূল কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অনেক জেলায় বর্ধিত সভাও শেষ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

সূত্র মতে, টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অধিকাংশ ইউনিটের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। অনেক জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত সম্মেলন নেই। কোথায় কোথাও সম্মেলন হয়নি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। নিয়মিত সম্মেলন ও কমিটি গঠন না হওয়ায় সংগঠন স্থবির। কোথাও কোথাও সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়েও পড়েছে। কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সময় আশ্বাস পেলেও এলাকাগুলোর নেতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি পাননি।

মেয়াদোত্তীর্ণ যেসব জেলা রয়েছে তার মধ্যে বরগুনা জেলার সম্মেলন ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বরে হয়। সেই সম্মেলনে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এখনো সেই কমিটি বহাল আছে।

তাছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, চট্টগ্রাম উত্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাট, বগুড়া, খুলনা, মেহেরপুর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে আওয়ামী লীগের জেলা শাখার দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে সর্বশেষ গতকাল হয়ে গেল বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন।

শুধু জেলাতেই নয়, একই অবস্থা উপজেলাসহ ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়েও। যেসব জায়গায় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে সেসব জায়গায় দ্রুত সম্মেলন করা হবে। একই সঙ্গে যেসব জায়গায় সম্মেলন হয়েছে কিন্তু নতুন কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি, সেসব জায়াগায় দ্রুত কমিটি দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, জাতীয় সম্মেলন অক্টোবর মাসেই হবে। তাই যে যে এলাকাগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি আছে সেগুলোতে সম্মেলন আয়োজন খুব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে এক সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ গঠিত হলেও দলটির প্রথম কাউন্সিল হয় ১৯৫৩ সালে। ৭০ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় এ পর্যন্ত দলটির ২০টি সম্মেলন হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দায়ী আওয়ামী লীগে চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাজউদ্দীন আহমদ, জিল্লুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আবদুল জলিল, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আর সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর ২০তম সম্মেলন হয় আওয়ামী লীগের। ওই সম্মেলনে ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি হন শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আস/এসআইসু

Facebook Comments