ত্রিপল দিয়ে ঢেকেও পাহাড় ধস ঠেকানো যাচ্ছে না

183

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি শুরু হয়নি। শুধু ভারী বৃষ্টি নয় হালকা বৃষ্টিও খুব বেশি হচ্ছে না। আষাঢ়ের ভরা বৃষ্টির সময়ও কাপ্তাই উপজেলাসহ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় বৃষ্টির দেখা মিলছে না। তবে বৃষ্টি না হলেও পাহাড় ধস ঠিকই হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস হচ্ছে। পাহাড় ধস ঠেকানর জন্য ত্রিপল দিয়ে পুরো পাহাড় ঢেকে ফেলা হচ্ছে। তাতেও পাহাড় ধস ঠেকান যাচ্ছে না। পাহাড় ধসের ফলে পাহাড়গুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি পাহাড়ের মাটি সড়কে জমা হয়ে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এ ছাড়াও পাহাড় ধসের মাটি সরাসরি পড়ছে কাপ্তাই লেক এবং কর্ণফুলী নদীতে। এর ফলে মাটি জমে লেক এবং নদী ভরাট হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহীদুজ্জামান মহসীন বলেন, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলাসহ কাপ্তাই, রাজস্থলী, কাউখালী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, লংগদু উপজেলায় প্রতিনিয়ত পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। পাহাড় ধস ঠেকাতে না পারলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মফিজুল হক বলেন, উপজেলার কাপ্তাই, ওয়াগ্গা, চিত্মরম এবং রাইখালী ইউনিয়নে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। এসব পাহাড় রক্ষা করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এভাবে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে কোনোভাবেই পাহাড় ধস ঠেকান সম্ভব হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় জীবতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুদত্ত কারবারি চাকমা জানান, তার ইউনিয়নে একাধিকার পাহাড় ধসের কবল থেকে রক্ষা করতে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বকুল চাকমা তার নিজস্ব পাহাড় ধসের কবল থেকে রক্ষা করতে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। এ ছাড়াও জীবতলী সড়কের পাশে অবস্থিত পাহাড় রক্ষার জন্য পুরো পাহাড় ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে পাঁচ আরই ব্যাটালিয়ন।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, পাহাড় ধস প্রাকৃতিক বিষয়। বৃষ্টি হলে পাহাড় ধস হতেই পারে। কিন্তু অনেক স্থানে মানুষ ঘরবাড়ি তৈরির জন্য পাহাড় কেটে ফেলায় পাহাড় ধসের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব পাহাড়ের পাদদেশ কাটা পড়েছে সেই পাহাড়গুলো প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বৃষ্টি হলে এই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোই বেশি ভাঙনের কবলে পড়ে। আর বৃষ্টি না হলেও আপনাআপনি পাহাড় ধস হতে পারে। তিনি আরো বলেন, পাহাড় ধস ঠেকানর জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। যত্রতত্র ও যখন তখন পাহাড় কর্তন বন্ধ করা, পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসতবাড়ি নির্মাণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না গড়া, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাহাড় কেটে কৃষি জমির আয়তন যাতে বৃদ্ধি করতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইত্যাদি। সরকারের আইন অমান্য করে কেউ পাহাড় কাটলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এসব পদক্ষেপ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে পাহাড় ধস বহুলাংশে ঠেকান যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সর্বস্তরের জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার জন্যও তিনি আহ্বান জানান।

আস/এসআইসু

Facebook Comments