নানার ধর্ষণে নাতনি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা!

640

যশোর প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে পড়শি নানা বিলাল শেখের দ্বারা নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৫ বছর বয়সের নাতনিকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ। এঅবস্থায় গর্ভের সন্তানের গর্ভপাত ঘটিয়ে মাটিতে পুতে ফেলানোর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

প্রসূতি শিশু ছাত্রীকে নির্জন স্থানে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ২৭ জুন পুলিশ হেফাজতে প্রসূতিকে যশোর নিয়ে মেডিকেল করাসহ তাকে ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট নিয়ে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে গর্ভপাত ঘটানো শিশুটিকে যাতে মাটি চাপা থেকে তুলে সরিয়ে ফেলতে না পারে তার জন্যে সেই কবর স্থানে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করে সেখানে দুজন থানা পুলিশ ও তিনজন গ্রাম পুলিশ ২৬, ২৭ ও ২৮ জুন তিন দিন ধরে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।

মাটিচাপা দেয়া স্থান থেকে ৪ দিন পর ২৯ জুন সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ এনামুল হকের উপস্থিতিতে লাশটি তোলা হয়। এর পর নবজাতকের লাশের ময়না তদন্তের জন্যে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কেশবপুর উপজেলার ধর্ষণের শিকার মেয়েটি খুব ছোট অবস্থা থেকে একই উপজেলার নানা মৃত সামসুর রহমান সরদারের বাড়িতে থাকা শুরু করে। সেখানেই লেখাপড়া শুরু করে। বর্তমানে ওই মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। মেয়েটির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেয় তারই প্রতিবেশী নানা সারুটিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক সরদারের ছেলে তিন সন্তানের জনক বিলাল সরদার (৪৫)। লম্পট বিলাল সুযোগ বুঝে মেয়েটিকে জোর করে ধর্ষণ করে একদিন। এর পর বিভিন্ন ভয় ভীতি প্রদর্শন করে তাকে ভোগ করতে থাকে ওই নানা। এরই মধ্যে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

গর্ভের সন্তান ৭ মাস হলে মেয়েটিকে সন্তান নষ্ট করার জন্যে চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ২৩ ও ২৪ জুন প্রতিদিন দুটি করে ট্যাবলেট খাওয়ানোর পর ২৫ জুন সকালে গর্ভের সন্তান ‍ভূমিষ্ট হলে সেটি প্রথমে পুকুরের পানির মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। তখন কয়েকজন মহিলা সেটি দেখে ফেললে গর্ভপাত ঘটানো নবজাতকটি পানি থেকে তুলে এনে ঘটনার নায়ক বিলাল সেটি কবরস্থানে নিয়ে মাটিতে পুতে ফেলে।

এলাকাবাসী জানায় এঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হলে পুলিশ ২৬ জুন ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন। এঘটনায় মেয়ের মামা ঘটনার জন্যে দায়ী লম্পট বিলাল শেখকে আসামী করে থানায় মামলা করেন। এরপর থেকে বিলাল পলাতক রয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments