নিজ যোগ্যতায় চাকরি পাওয়াদের বাড়িতে গিয়ে মিষ্টিমুখ করালেন পুলিশ কর্মকর্তারা

1075

সজীব আহমেদ, ভৈরব

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশে চাকরি পাওয়ায় ১৩জনের বাড়িতে গিয়ে তাদের কে মিষ্টিমুখ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভৈরব থানার পুলিশের কর্মকর্তারা।

কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মো.মাশরুকুর রহমান খালেদ এর শতভাগ স্বচ্ছতায় ট্রেনি রিক্রোট কনষ্টবল পদে নারী-পুরুষ

নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের বাড়িতে
ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব পড়েন ভৈরব থানার দুই এসআই মো.মতিউজ্জামান ও এসআই মো. হুমায়ুন করীবে।

পরে ভৈরব-কুলিয়াচর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজুয়ান দিপু ও ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোখলেছুর রহমান এর পক্ষ থেকে

নিজ যোগ্যতায় কোনও প্রকার সুপারিশ ছাড়াই পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে এমন শুভেচ্ছা পেয়ে কেঁদে ফেলেছেন নিয়োগপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা।

শতাব্দী মা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছে ২০০৩ সালে। এরপরে অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়ালেখা করাচ্ছি।

এবারে পুলিশে আবেদন করে সে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই নিয়োগে কোনও প্রকার টাকা দিতে হয়নি। যদি টাকা দিতে হতো তাহলে আমার মেয়ের চাকরি হতো না।

আর টাকা ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার পর শুভেচ্ছা জানাতে পুলিশের কর্মকর্তারা আমার মতো গরিবের বাড়িতে এসেছেন।

এটা যে কত সৌভাগ্যের তা বলে বোঝানোর মতো নয়। মেয়ের যোগ্যতার জন্য আজ আমি এত সম্মানিত হলাম।

শতাব্দী চাচা বলেন,আমার এখন বয়স হয়েছে। এই বয়সে আমি এমন নজির দেখিনি যে কর্মকর্তারা বিনা টাকায় চাকরি দেওয়ার পর আবার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে আসে।

আমাদের সেই ধারণা পুলিশ পাল্টে দিয়েছে। যদি সব ক্ষেত্রেই টাকা ছাড়া এমন চাকরি হতো তাহলে আমাদের দেশটা আরও উন্নত হতো।

চাকরি পাওয়া নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা খুব গরিব। টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নাই, পুলিশে চাকরি পাওয়া স্বপ্নের মতো ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন আমি সংসারে কিছুটা হলেও স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবো।

কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মো.মাশরুকুর রহমান খালেদ দৈনিক আলোকিত সকাল ভৈরব প্রতিনিধি কে জানান,

যাদের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে এটা তাদের প্রাপ্য।প্রতিটি থানার ওসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের বলে দেওয়া হয়েছে যেন তারা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের বাড়িতে গিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে।

আর আমরা যেন এটা বলতে পারি যে পুলিশে চাকরি নিতে কোনও কথিত দালাল বা সুপারিশ প্রয়োজন হয় না।

আস/এসআইসু

Facebook Comments