নিমিষেই হলো সব শেষ

181

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রাজন আহমেদ (২২) ও সুমাইয়া খাতুন (২১) ছিলেন নদীর দুই ধারার মতো। এক মোহনায় এসে মিলেছিলেন তারা। দুটি জীবন একসঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিল, নতুন এক যুগল জীবন শুরুর প্রত্যাশায়। আর সবার মতো তাদের হৃদয়েও নিশ্চয়ই বাসা বেঁধেছিল কত আশা, মনের আকাশে উড়ছিল নিশ্চয়ই কত স্বপ্ন। কিন্তু সব আশা ঝরে গেছে তাদের, নিঃশেষে; তীরবিদ্ধ পাখির মতো মুখ থুবড়ে পড়েছে যত স্বপ্ন, চিরতরে। যুগল জীবন শুরুর আগেই নিভে গেছে তাদের জীবনপ্রদীপ। সুমাইয়াকে বিয়ে করে স্বজনবেষ্টিত রাজন তাদের বাড়ি ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুজনের। অরক্ষিত একটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের ওপর এসে হামলে পড়ে একটি ট্রেন। মাইক্রোবাসটিকে পিষ্ট করার পরও প্রায় আধা মাইল পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে বর-কনে ছাড়াও ওই মাইক্রোবাসের ১০ আরোহী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও তিনজন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কত স্বপ্ন, কত আশার সমাধিÑ একটি দুর্ঘটনা।

হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনার স্থল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পঞ্চক্রোশী এলাকার একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং। সময়Ñ গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। গতরাতে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, ওই দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ বন্ধ ছিল। নিহতদের মধ্যে বর রাজন ও কনে সুমাইয়া ছাড়া চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেনÑ মমতাজ বেগম, শরিফ শেখ, আজম খান ও

মাইক্রোবাসের চালক স্বাধীন। ঘটনার পর পরই উল্লাপাড়া মডেল থানাপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়রা জানান, বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি উল্লাপাড়ার চরঘাটিনা থেকে সিরাজগঞ্জের কালিয়া কান্দাপাড়া যাচ্ছিল। সন্ধ্যার পর গাড়িটি পঞ্চক্রোশী এলাকার রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয়। দ্রুতগামী ট্রেনটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসটিকে টেনেহিঁচড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সাহিকোলা গ্রামের কাছে নিয়ে যায়। এ সময় গ্রামের লোকজন ট্রেনটি অবরোধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দমকল বাহিনী সূত্র জানায়, ট্রেনটি এত জোরে মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয় যে, গাড়ি থেকে দুজন ছিটকে বাইরে পড়ে। পরে ওই রেলগেটের কাছে দুজন এবং সাহিকোলা গ্রামের কাছে গাড়ি থেকে সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

উল্লাপাড়া থানার ওসি দেওয়ান কৌশিক আহমেদ ও উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনমাস্টার নাজির হোসেন জানান, সিরাজগঞ্জ উপজেলার কালিয়া কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে রাজন আহমেদের সঙ্গে গতকাল উল্লাপাড়ার চরঘাটিনা গুচ্ছগ্রামের আবদুল গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের বিয়ে হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে নববধূকে নিয়ে রাজনসহ ১২ জন মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার পর উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিস, থানাপুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments