নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বাজার

250

আলোকিত সকাল ডেস্ক

দেশের বাজারে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের খুচরা দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে দেশের সব স্থলবন্দর দিয়ে কম মূল্যের পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত শনিবার থেকে ২০ টাকা এবং মঙ্গলবার ১৮ টাকা কেজি দরে ভারত থেকে পেঁয়াজ এসেছে দেশে।

এসব পেঁয়াজ ইতোমধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে চলে গেছে। কিন্তু দাম এখনও কমাননি পাইকারি কিংবা খুচরা ব্যবসায়ীরা।

কোরবানির ঈদ এলেই প্রতিবছর অস্থির হয়ে উঠে পেঁয়াজের দাম। চলতি বছরও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বাড়ছে পেঁয়াজর দাম। মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

এনবিআরের তথ্যমতে, চলতি ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। সে হিসাবে দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ রয়েছে। তারপরও পেঁয়াজ দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশের বাজারে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ভারতের অটোমেশন পদ্ধতি এবং পেঁয়াজ রফতানিতে ভারত সরকারের দেয়া প্রণোদনা ৩০ জুন থেকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি সামনে আনছেন সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার কারণেই মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছেন। সেখানকার স্থানীয় পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন ২২ থেকে ২৪ টাকায়। কিন্তু এই ২০ টাকার পেঁয়াজ ভোক্তার ব্যাগে যাচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। অর্থাৎ আমদানি মূল্যের তিনগুণ দামে এখন পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ভোক্তাকে।

এদিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভারতে সামান্য মূল্য বৃদ্ধি ও বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজ দাম তিনগুণ বাড়িয়ে প্রতি দিন লুফে নিচ্ছে ৫৩ কোটি টাকারও বেশি। মুনাফা লোভীদের কারণে ভারতে পেঁয়াজের দাম কমলেও দেশের বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে খোঁজ নিয় জানা গেছে, এখানে দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪২ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

কোরবানির ঈদ এলে বাড়তি আরও ২ লাখ টনের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে কোরবানির ঈদ ঘিরে মাসে পেঁয়াজের চাহিদা তৈরি হয় ৪ লাখ টন। এ হিসাবে এক দিনে পিঁয়াজের চাহিদা ১৩ হাজার ৩৩৩ টন বা ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার কেজি।

পেঁয়াজের দাম তিন হাত ঘুরে ২০ টাকার পেঁয়াজ ৬০ টাকা হওয়ায় কেজিতে ৪০ টাক লুফে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সে হিসাবে প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ থেকে মুনাফা লুফছে ৫৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকারও বেশি। আর মাসব্যাপী এ দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কয়েকশ কোটি টাকা যাবে তাদের পকেটে।

‍এদিকে, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এক সাংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হলেও তা কমে আসবে।

তিনি বলেন, “আমরা দেখতে চাচ্ছি, দামটা কমে আসে কি না। আমরা আশাবাদী কমে আসবে।” দাম না কমলে বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments