নিয়ন্ত্রণহীন সংগীতাঙ্গন

240

আলোকিত সকাল ডেস্ক

অবিভাবক ও নিয়ন্ত্রণহীন অডিও বাজারে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিরাজ করছে নানান অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলতা। কখনও নকলের অভিযোগ, কখনও রিমেক গানের অভিযোগ আবার কখনও অন্যের গান চুরির অভিযোগ। কোনো নিয়মনীতি না থাকায় যে যার মতো গান তৈরি করে প্রকাশ করছেন। আর প্রকাশের পরপরই নানান অভিযোগ উঠছে।

যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ নকলের। সর্বশেষ সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘পাসওয়ার্ড’ একটি গানের বিরুদ্ধে সুর নকলের অভিযোগ আনলেন দেশের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন। গানের নাম ‘আগুন লাগাইলো’ আর গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন শিল্পী কোনাল। এই আইটেম গানটি ইমনের একটি গানের সুর থেকে নকল করা হয়েছে বলে দাবি করলেন তিনি। শনিবার বিকালে শওকত আলী ইমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে এ অভিযোগ আনেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমার গান ভারত থেকে নকল করিয়ে এনে আবার আমার দেশেই রিলিজ করলেন কেন এই প্রশ্নের উত্তর আমি শওকত আলী ইমন একটু জানতে চাই। ভারতের সংগীত পরিচালক আমার গানের সুরই নকল করে তাদের দিয়ে দিলেন। তারাও যাচাই-বাছাই না করে সেটা চালিয়েছেন। মেধার এমন হাস্যকর অপচয়, অপমান পৃথিবীর আর কোনো দেশে হয় কিনা আমার জানা নেই। একটু অনুমতি নিয়ে নিলে খুশি হতাম।’

কিছুদিন আগে শফিক তুহিনের গান চুরির দায়ে জেল খাটতে হয়েছিল বাংলা গানের যুবরাজ হিসেবে পরিচিত আসিফ আকবরকে। এরপর সব কিছু ঠান্ডা হতে শুরু করলেও উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে নকল গান। বেশ কয়েক বছর আগেও এ অঙ্গনকে হানা দিয়েছিল পাইরেসি এবং ইন্টারনেটে ফ্রি গান ডাউনলোডের বিষয়গুলো। এরপর যোগ হয়েছিল শিল্পীদের সঙ্গে শিল্পীদের, অডিও প্রযোজকদের সঙ্গে অডিও প্রযোজকদের এবং সিনিয়র শিল্পী-গীতিকার-সুরকারদের এবং প্রযোজকদের দ্বন্দ্বের ব্যক্তিগত রেষারেষি। বিষয়টি পুরো অডিও শিল্পের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়েই দেখা দিয়েছিল। এরপর আবার এই অঙ্গনে যোগ হলো নকল আর রিমেক গানের হিড়িক। কেউ সুর নকল করছেন, কেউ কথা নকল করছেন আবার কেউ পুরো গানই রিমেক করে তারকা বনে যাচ্ছেন। খুঁজতে গেলে তাদের নিজের মৌলিক কোনো গান নেই। এ কারণে একত্রিত হয়ে অডিও শিল্পের উন্নয়নে কাজ করার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। যার ফলে এখন হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে অডিও শিল্প। অডিও শিল্পের কেন এ অবস্থা এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে দেশের প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং অডিও প্রযোজকরাই এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন অনেকেই। আবার অনেকেই দায় দিচ্ছেন কলকাতার কিছু সংগীত পরিচালককে।

এ ছাড়া শিল্পী ইমরানসহ একাধিক শিল্পীর বিরুদ্ধে নকল আর রিমেক গানের অভিযোগ উঠলেও বেশি সমালোচনায় এসেছিল ইমরানের জনপ্রিয় গান ‘বলতে বলতে, চলতে চলতে’ গানটি। কথা, সুর এমনকি মিউজিকসহ গানটি গেয়ে সে রাতারাতি তারকা বনে যান। এ ছাড়া অনেক গানেই তার বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়- একটি বিশ্বস্ত সূত্র তাকে নকল গানের সম্রাট বলে আখ্যায়িত করেছেন। আরও কয়েকটি রিমেক গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তবে সব মিলিয়ে সংগীতাঙ্গনে বেশ দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন একমাত্র তিনিই। এমনটি অভিযোগ পাওয়া গেছে শিল্পী হাবিবের ‘কৃষ্ণ’ অ্যালবামের ক্ষেত্রেও। এ ছাড়া আরও একটি রিমেক গানের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

অনেক সুরকার, গীতিকার আর সংগীত পরিচালকদের দেখা যাচ্ছে চলচ্চিত্রের গান কমিয়ে নাটক, টেলিফিল্ম কিংবা ওয়েব সিরিজ আর মিউজিক ভিডিও এর জন্য কোনো এক গান, কবিতা ও নানা রকমের ছন্দ থেকেও গান তৈরি করছেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments