নীলফামারীতে প্রতিবছর কমছে পাট চাষ

161

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বিরূপ আবহাওয়া, শ্রমিক সংকট, ন্যায্য দাম না পাওয়াসহ নানা ঝামেলার কারণে প্রতি বছরই নীলফামারীতে কমছে পাটের আবাদ। পাটের পরিবর্তে এখানকার কৃষকরা ভুট্টা, ধান, মরিচসহ অন্যান্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। এ অঞ্চলের কৃষকরা মনে করছেন এভাবে প্রতি বছর পাটের চাষ কমতে থাকলে এক সময় হারিয়ে যাবে সোনালি আঁশখ্যাত অর্থকরী এই ফসল।

এক সময় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল এই পাট। দেশের অন্যান্য জেলার মতো নীলফামারী জেলায়ও ব্যাপকহারে পাটের আবাদ হতো। ধানের পরেই ছিল পাটের স্থান। অল্প করে হলেও প্রত্যেক কৃষকই পাট চাষ করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিরূপ আবহাওয়া, ভালো বীজের অভাব, পাট পচানোর পানির অভাব, ন্যায্যমূল্য না থাকাসহ নানা ঝামেলার কারণে কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। পাটের বিকল্প হিসেবে তারা ধান, ভুট্টা, আখ, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন। এছাড়া পাটখেত নিড়ানি, কর্তন ও পাটের আঁশ ছড়াতে অনেক শ্রমিকের দরকার হয়। বর্তমানে শ্রমিক সঙ্কটের কারণেও পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন কৃষকরা।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র মতে চলতি বছর (২০১৯-২০ অর্থবছর) জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৩৩ হেক্টর জমিতে। আর অর্জিত হয়েছে আট হাজার ৬৯৫ হেক্টরে।

গত বছর (২০১৮-১৯) লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৪৬০ হেক্টর। আর অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ১৬০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৪৬৫ হেক্টর জমিতে কম পাট চাষ হয়েছে। প্রতি বছরই এভাবে পাটের চাষ কমছে নীলফামারীতে।

নীলফামারী পৌর এলাকার কৃষক হবিবর রহমান ও কয়া মামুদ জানান, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট পচানোর পানির অভাবে পাট চাষিদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এখন যারা পাট চাষ করছেন তারা শুধু পাট খড়ির জন্য করছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই ফসলটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কাশেম আযাদ বলেন, বিরূপ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং অন্যান্য ফসলের প্রতি কৃষকের আগ্রহ বেশি থাকায় প্রতি বছর পাটের আবাদ কমছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments