নেতৃত্ব বিহীন তরুণ প্রজন্ম হুমকির মুখে

323

শামীম শিকদার

তরুণ প্রজন্মরা আজ সবচেয়ে বেশি অসহায়। সঠিক পরিকল্পনা ও পরামর্শের অভাবে ভোগে তারা। মাঝে মাঝে এ থেকে হতাশাও কাজ করে। এ হতাশা সুযোগ নিয়ে সমাজের কিছু স্বার্থ লোভী ব্যক্তি তাদের নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ব্যবহার করতে শুরু করে তরুণদের। নেতৃত্ব বিহীন তরুণ প্রজন্ম আজ হুমকির মুখে।

জীবন সংগ্রামে হেরে যাওয়ার ঠিক কঠিন মুহূর্তে কেউ যদি পাশে এসে মাথায় হাত রেখে বলে, তুমি এগিয়ে যাও, আমি তোমার পাশে আছি। এই পাশে আছি কথাটি শোনার পর মনের ভিতরে যে অনুভূতির সৃষ্টি হবে তা সম্ভবত কোটি টাকা দিয়েও ক্রয় করা দুষ্কর। এ কথাটি নিজের মনের মনোবল হাজার গুনে বাড়িয়ে দিয়ে নিজেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছাতে অবশ্যই প্রেরণা হয়ে কাজ করবে। যে লোকটি বলেছে পাশে আছি সে যদি পরবর্তী সময়ে তার কথা না রাখতে পেরে পাশে নাও থাকতে পারে তবু তার দেওয়া ভরসা প্রেরনা হয়ে যে সহযোগিতা করবে তার মূল্য কোন ভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা বর্তমানে এমন এক সময়ে অবস্থান করছি যেখানে, পাশে আছি বলার মতো আমাদের পাশে কেউ নেই। একটি ভাল উপদেশ তো দূরের কথা একটি ভাল পরামর্শ নেওয়ার মতো জায়গা অনেক সময় আমরা খুঁজে পাই না। আমরা যদি আমাদের নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের মতো করে চলতে বা কাজ করতে চেষ্টা করি তবে সেখানে নানান ধারনের মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। সে মন্তব্য গুলো যে সব ভাল তেমনটাও নয়।

কিছু কিছু ব্যক্তির মুখ থেকে এতোটাই মন্দ মন্তব্য বের হয় যে আমাদের শুরু করা কাজটি মাঝ পথেই থামিয়ে দেয়। তখন আমরা ভোগি হতাশায়। কিন্তু আমরা কি একবারও ভেবেছি যারা আমাদের কাজ দেখে মন্দ মন্তব্য করছে তারা কি আমাদের কাজে মন্তব্য করার মতো যোগ্যতা রাখে কি না। আমাদের ভাবা উচিত যারা এমন মন্তব্য করে ওই বিষয়টায় তাদের কতটুকু জ্ঞান রয়েছে। কারণ একটি কাজ যতোই মন্দ হোক না কেন তাকে সফল বা শিক্ষিত বিবেকবান লোক কখনই বাজে মন্তব্য করবে না। তার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে তারা জানে বাজে মন্তব্য করলে মানুষের মনোবল নষ্ট হয়ে যায়। তখন মানুষ হতাশায় ভোগে নিজের কর্ম থেকে সরে যায়। আমাদের ভাল চায়না কেবল মাত্র এমন ব্যক্তিরাই চাইবে বাজে মন্তব্য করে আমাদের কাজ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে। আর যারা আমাদের ভাল চাইবে তারা নিশ্চয় ভাল পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে চাইবে সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করে নিদিষ্ট লক্ষে পৌছাতে।

আমরা যদি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকাই তবে আমাদের চোখের সামনে পড়বে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি হরকে রকমের শিক্ষক। এদের একেক জনের ব্যবহার একেক রকম। কাউর সাথে কাউর তেমন কোন মিল নেই। কেউ খুব বেশি কথা বলে, আবার কেউ নিতান্তই কম কথা বলে। কেউ টাকার জন্য পড়ায়, আবার কেউ শিক্ষিত মানুষ গড়ার জন্য পড়ায়; যদিও সেখানে অর্থ ভূমিকা রাখে তবে মূখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে আলোকিত মানুষ গড়া। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় সমাজের প্রতিটি অংশে লুকিয়ে রয়েছে আমাদের ধ্বংস করার মতো অনেক থাবা। আমরা কখনও তা টের পাই, আবার কখনও টের পাই না। আমাদের চোখের সামনে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা খুব সুন্দর করে হেসে হেসে সাজিয়ে গোছিয়ে আমাদের সাথে নৈতিকতার কথা বলে। তাদের কথা শুনলে মনে হয় পৃথিবীর সকল নৈতিকতার উৎপাদন কেন্দ্র ওনি নিজেই। প্রকৃতপক্ষে তাদের কাজে তেমন কোন নৈতিকতার পরিচয় মিলে না। অর্থাৎ এমন নৈতিকতা কেবল মাত্র মুখের মধ্যেই সীমাবন্ধ। যে নৈতিকতা মুখের মধ্যে সীমাবন্ধ থাকে সে নৈতিকতা মানব জীবনে তেমন কার্যকর ফল কখনই বয়ে আনতে পারে না। সমাজে এমন কিছু লোক আছে যারা মুখে ঠিক সুন্দর ভাবে সাজিয়ে মানবতার কথা বলবে এবং লোক দেখানে মানব সেবা করে। তাদের কর্মকান্ডটি হচ্ছে ঠিক গাছের গোড়া কেটে পানি ঢালার মতো। ক্ষমতার জোরে অনেকেই তাদের সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। পথে পথে শিকার হয় নানান ধারনের অপ্রত্যাশিত ভোগান্তির। প্রাপ্য বিচারের দাবিতে বার বার ঘুরে যায় ক্ষমতাবান ব্যক্তির দুয়ারে। কিন্তু তারা বুঝে না শাসক নামের শোষকরা কোন দিন তাদের নিজের স্বার্থ ছাড়া পা বাড়ায় না। এমন হাজারে প্রতিবন্ধকতার মাঝে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম হারিয়ে যাচ্ছে। নিজের হতাশা, নিজের ইচ্ছা, নিজের মনোবলকে দৃঢ করার জন্য একটু ভাল পরামর্শ বা উপদেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আজকের তরুণ প্রজন্ম। অনেকে ভাল পরামর্শ বা উপদেশের অভাবে হেরে যাচ্ছে, আবার অনেকে মন্দ উপদেশ বা পরামর্শ পেয়ে নিজের জীবনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে।

তাই আজকের তরুণ প্রজন্মকে সঠিক স্থান চিহ্নিত করে উপদেশ ও পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। আমাদের নোংরা স্থান ও মানসিকতাকে পরিত্যাগ করে সঠিক পথে আমাদের নির্দিষ্ট লক্ষে এগিয়ে যেতে হবে। শত বাধায়ও থেমে যাওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, জীবন মানেই সংগ্রাম, বিজয় মানেই সুখ।

শামীম শিকদার

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

কাপাসিয়া, গাজীপুর

০১৭৯৯৩৮৯০৫০

আস/এসআইসু

Facebook Comments