নয়ন বন্ড বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এএসপিসহ ৪ পুলিশ আহত

486

আলোকিত সকাল ডেস্ক

দেশব্যাপী আলোচিত বরগুনার কলেজছাত্র রিফাত শরীফের প্রধান ঘাতক ও ০০৭ গ্রুপের প্রধান সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (০২ জুলাই) ভোর রাতে বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় রিফাত বাহিনীর হামলা ও গুলিতে একজন সহকারী পুলিশ সুপারসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাকি একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও একজন কনস্টেবলকে বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বলে জানিয়েছেন বরগুনা সদর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বরগুনার সহকারী পুলিশ সুপার-(এএসপি, সদর সার্কেল) শাহজাহান হোসেন, সদর থানার উপ-পরিদর্শক হাবিবুর রহমান, উপ-পরিদর্শক মনির ও কনস্টেল হাবিবুর রহমান।

এদিকে, বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন নয়ন বন্ড বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচিত। এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত ছিল।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়ন বন্ডকে গ্রেপ্তার করতে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের পুরাকাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ওপর অতর্কিতভাবে গুলি ছুড়তে শুরু করে নয়ন বন্ড ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এসময় পুলিশও সরকারি সম্পদ ও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়।

নয়ন বন্ড বাহিনীকে দমাতে পুলিশের পক্ষ থেকে ২০ লাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। এর ফলে এক পর্যায় নয়ন বন্ড বাহিনী পিঁছু হটে। কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নয়ন বন্ড বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলেজ রোড এলাকার মৃত মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে ও রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি।

এদিকে, ঘটনাস্থল হতে ১টি পিস্তর, এক রাউন্ড তাজা গুলি, শর্টগানের গুলির ২টি খোসা ও ৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া এই ঘটনায় পুলিশের এএসপি ও দু’জন এসআই এবং একজন কনস্টেবল আহত হলে ঘটনাস্থল হতেই তাদের হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, নয়ন বন্ডের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আটটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় নয়ন বন্ডকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া। যার মধ্যে ২টি মাদক, একটি অস্ত্র আইন এবং হত্যা চেষ্টাসহ ৫টি মারামারির মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি’র সামনে স্বামী রিফাত শরীফের ওপর বরগুনা সরকারি কলেজের মুল ফটকে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী সহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়।

এসময় স্ত্রী মিন্নি’র শত বাধার পড়েও নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এর পর প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে দুপুর ১টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে একই দিন বিকাল সোয়া ৪টায় হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে মৃত্যু হয় রিফাত শরীফের। তার উপর সন্ত্রাসী হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। যা নিয়ে গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

মামলার প্রধান আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়া ছাড়াও এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত ৪ জন আসামি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরো ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বরগুনা থানা পুলিশ। এদের মধ্যে দু’জন নিজেদের দায় স্বীকার করেছে। বাকি তিন জনকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আস/এসআইসু

Facebook Comments