পটুয়াখালী জেলা শহরের স্টেডিয়াম সড়ক বেহাল

146

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পটুয়াখালী জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়াম সড়কটি দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় বড়ো বড়ো খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জমে থাকা বর্ষার পানি দেখে মনে হয় যেন রাস্তার মাঝে তৈরি হয়েছে বদ্ধ জলাশয়। এ অবস্থায় ঐ সড়কে বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন ও মানুষের চলাচল। অনেক পথ ঘুরে যেতে মানুষকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

জেলা শহরের ব্যস্ততম পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে পুলিশ লাইনের সামনের বিটুমিন কারপেটিং রোড পর্যন্ত এই স্টেডিয়াম সড়ক। এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে উত্তর কালিকাপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উত্তর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিডসি), জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি, আবুল কাসেম স্টেডিয়াম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কল্যাণ অফিস প্রভৃতি। তা ছাড়া, লঞ্চে আসা যাত্রীসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজনদেরকে সদর রোড হয়ে ডিসি কোর্ট ও জজ কোর্টে যাওয়ার এটি সহজ পথ। দীর্ঘ দিন ধরে এই স্টেডিয়াম সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং অফিস-আদালতে আসা হাজারো লোকজনদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

স্টেডিয়াম সড়কের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের মেসার্স জনপ্রিয় বাগদাদ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির জসীম খন্দকার বলেন, বছর দশেকের মধ্যে এই রাস্তা কোনো মেরামত না করায় এখন বেহাল অবস্থা। বৃষ্টির দিনে এই রাস্তায় কোনো গাড়ি চলে না।

পৌরসভার ঐ এলাকা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. দেলোয়ার হোসেন আকন বলেন, অনেক চেষ্টার পর এইবার এই রাস্তার নির্মাণকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ লাইনের কারপেটিং রাস্তা থেকে পুরান বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেনের কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

পটুয়াখালী পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী(সিভিল) উজ্জল কর্মকার জানান, স্টেডিয়াম সড়ক ৫৯৪ মিটারের কাজ তৃতীয় নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুনঃপ্রাক্কলন করে ঢাকার প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।

পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মদ বলেন, স্টেডিয়াম সড়কটি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এবারে এই সড়কটি যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয় সেভাবে পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।

সড়কটি হবে ২২ ফুট প্রশস্ত ও পাশে ড্রেনের ওপর দিয়ে ফুটপাত হবে। যাতে যানবাহন ও লোকজন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। ইতিমধ্যে এই সড়ক নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং তা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এই সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments